Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : জন্তর মন্তরে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী (Jantar Mantar Protest) ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠলো দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে এক আহত যুবকের শরীরে পেলেটজাতীয় আঘাতের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এদিকে, ঘটনায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।
কী দাবি হাসপাতালের ?
আগেই দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, আন্দোলনকারীদের (Jantar Mantar Protest) বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা “ভুল ও বিভ্রান্তিকর”। পুলিশের দাবি, তাদের কাছে পেলেট গান নেই এবং ওই দিন এমন কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। তবে পুলিশের সেই দাবি উড়িয়ে দিলো খোদ সফদরজং হাসপাতাল।
সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে ২৮ বছর বয়সি এক আহত যুবকের কনুই ও পিঠে পেলেটজাতীয় আঘাতের উল্লেখ করা হয়। তাদের প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যুবকের শরীরের একাধিক স্থানে পেলেটের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে, আশপাশের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু পেলেটের অংশ এখনও শরীরের ভিতরে রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, তাঁকে ২০ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ ভর্তি করা হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁদানে গ্যাস নিয়ে প্রশ্ন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলন (Jantar Mantar Protest) নিয়ন্ত্রণে মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়েছে। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) এই অভিযোগ করে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়েও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০ জুলাই কথিত NEET-UG প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। সংসদমুখী মিছিল আটকাতে দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিওতে প্রথমে লাঠিচার্জ এবং পরে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করার দৃশ্য দেখা যায়। সংঘর্ষে বহু আন্দোলকারী ছাত্র ছাত্রী আহত হন। আন্দোলনকারীদের দাবি, একজন গুরুতর আহত অবস্থায় আইসিইউতেও ভর্তি রয়েছেন। এই অবস্থায় এই অভিযোগ গুলির প্রেক্ষিতে দুটি পৃথক মামলার শুনানিতে দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাবও তলব করেছে। এবার আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর আন্দোলনকারীদের।


