27.7 C
Kolkata
Friday, July 24, 2026
spot_img

পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো-বোতল! ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনে ‘অ্যান্টি সোশ্যাল’-দের এন্ট্রি?

কলকাতা: কলকাতায় বাম-ছাত্রদের আন্দোলন ‘হাইজ্যাকড’? শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভ (NEET Protest) চলাকালীন পরিস্থিতি আচমকাই অশান্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছোড়া হয়। এমনকি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের গায়েও জল ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠে ‘বহিরাগত’দের মদতের অভিযোগও।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিক্ষোভ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জলকামান ব্যবহার করা হয়। কোথাও কোথাও পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে এগোতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আন্দোলনকারীরা (NEET Protest)। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডোরিনা ক্রসিং কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শতাধিক জুতো, প্ল্যাকার্ড এবং খালি জলের বোতল। সংঘর্ষের জেরে প্রায় ৩ ঘন্টা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলা চত্বর। ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে, দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। প্রসঙ্গত, শুক্রবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-র মত বামেদের আটটি সংগঠন আন্দোলনের (NEET Protest) ডাক দেয়।

সেই আন্দোলনে যোগ দেয় বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ও সিজেপি সমর্থক। নিট সহ একাধিক প্রশ্নফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবীতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার পর্যন্ত মিছিল নির্বিঘ্নে হলেও ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছয়। তারপরই বেঁধে যায় ধুন্ধুমার! এরই মাঝে এক আন্দোলনকারী জানান, তিনি কোনও ছাত্র নন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাতেই রাস্তায় নেমেছিলেন।

তাঁর অভিযোগ, শুরুতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে কিছু ‘বহিরাগত’ ঢুকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। তাঁর কথায়, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি কিছু লোক পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছুড়ছে। তখনই বুঝলাম, আন্দোলনের মধ্যে অ্যান্টি-ন্যাশনালরা ঢুকে পড়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলায়। কারা এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করল, জানি না।”

বর্তমানে রাণী রাসমণি রোডে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা (NEET Protest)। তাঁদের বক্তব্য, যতক্ষণ পর্যন্ত না ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে-র নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা (NEET Protest) রানি রাসমনি রোডে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি চান। পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রানি রাসমনি রোডের গার্ডরেল সরিয়ে সীমিত পরিসরে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানে বসে তাঁদের কর্মসূচি চালিয়ে যান।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন