Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। দিনটি আমেরিকার ইতিহাসে আজও ভয়াবহ এক স্মৃতি। সেই দিন আল-কায়েদার (Al-Qaeda) হামলায় কেঁপে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু ৯/১১-এর কয়েক বছর আগেই ওসামা বিন লাদেনের (Osama bin Laden) সম্ভাব্য হামলার তালিকায় ভারতের (India) নাম ছিল বলে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সিআইএ (CIA) নথি থেকেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।
১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের ওই মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে ভারতকে রাখা হয়েছিল একাধিক দেশের সঙ্গে একই তালিকায়। সেখানে ছিল পাকিস্তান, মিশর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং সম্ভবত নাইজেরিয়ার নামও। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দেশগুলির কয়েকটিতে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক ভাবনাচিন্তা করছিল।
‘Bin Ladin Terrorist Network Still a Threat’ নামে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে অবশ্য ভারতে হামলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা, সময় বা পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি। এমনকি এই তথ্য মার্কিন গোয়েন্দারা ঠিক কোন সূত্র থেকে পেয়েছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।
১৯৯৮ সালেই কী আশঙ্কা করেছিল CIA?
১৯৯৮ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে আল-কায়েদার ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওই গোয়েন্দা মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছিল। সেই হামলার পরও বিন লাদেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি নেতা বেঁচে গিয়েছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল। শুধু তাই নয়, রিপোর্টে বলা হয়েছিল, তাঁদের যোগাযোগ ব্যবস্থা তখনও সক্রিয় ছিল। হামলার পর আল-কায়েদার কয়েকটি শিবিরে ফের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল এবং কিছু ঘাঁটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছিল।
মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, বিন লাদেনের সংগঠন শুধু একটি বা দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের যোগাযোগ ও সহযোগীর নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল।রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছিল, হামলা চালানোর ক্ষেত্রে বিন লাদেন অন্তত ৬০টি দেশে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সহযোগী সংগঠনের সাহায্য নিতে পারেন। এমনকি মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্রিটেনের বিরুদ্ধেও হামলার চেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
৯/১১-এর আগেই কি সতর্ক করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা?
ভারতের নাম ওঠার বিষয়টি আসলে আরও বড় একটি নথিসংগ্রহের অংশ। ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে CIA ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ের বেশ কিছু প্রেসিডেনশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফ প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলির সংখ্যা ৭০-এরও বেশি এবং সব মিলিয়ে রয়েছে ১০০ পৃষ্ঠার বেশি গোয়েন্দা বিশ্লেষণ। বিল ক্লিনটন থেকে জর্জ ডব্লিউ বুশ—দুই প্রেসিডেন্টের সময়কার প্রশাসনের নথিও এর মধ্যে রয়েছে।
নথিগুলি সামনে আসার পর দেখা যাচ্ছে, ৯/১১-এর আগে থেকেই ওসামা বিন লাদেন এবং আল-কায়েদার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। বিভিন্ন রিপোর্টে বারবার সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সেই আশঙ্কাই ভয়াবহ বাস্তব রূপ নেয়।
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ কী ঘটেছিল?
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে গিয়ে ধাক্কা মারে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি বিশাল ভবন ধসে পড়ে।
আরেকটি বিমান গিয়ে আঘাত করে ওয়াশিংটনের কাছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ায় ভেঙে পড়ে। জানা যায়, সেই বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। ধারণা করা হয়, সেটি হয় হোয়াইট হাউস, নয়তো মার্কিন ক্যাপিটলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
এই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এরপরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয় বড় পরিবর্তন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আমেরিকা। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে ২০০১ সালের শেষদিকে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়।
আর এখন ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির আগে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা নথি থেকে সামনে আসছে, সেই ভয়াবহ হামলার বহু বছর আগেই বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক নিয়ে কতটা সতর্ক ছিল আমেরিকা। সেই নথিতেই সম্ভাব্য হামলার দেশগুলির তালিকায় ভারতের নামও ছিল।


