Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সাত বছর পর ফের ভারতে (India) এলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছন তিনি। ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতেই তাঁর এই দু’দিনের সফর। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদ।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও বৈঠক করেন শি জিনপিং। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত সমস্যা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ভারসাম্য এবং যৌথ বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিংকে ভারতে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে চিনের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্যও চিনের প্রতি ধন্যবাদ জানান মোদী। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথাও বলেন তিনি।
এরপরই সৌজন্যের সুরে বক্তব্য রাখেন শি জিনপিং। তিনি জানান, গত ১৫ জুন তাঁর জন্মদিনের দিনই প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছ থেকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। দুই নেতার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২১ বার বৈঠক হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন চিনা প্রেসিডেন্ট। জিনপিং বলেন, এই বৈঠকগুলিতে দুই দেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে। তাঁর মতে, সেই সিদ্ধান্তগুলিই ভারত-চিন সম্পর্ককে স্থিরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। চিন দীর্ঘমেয়াদি এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলেও জানান তিনি।
দুই দেশের পরিস্থিতি এক নয়—এ কথাও স্বীকার করেন জিনপিং। তবে তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি আলাদা হলেও ভারত ও চিন একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। একইসঙ্গে দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করে যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তন এবং অতিমারির পর তৈরি হওয়া নতুন পরিস্থিতিতে ভারত ও চিনের দায়িত্ব অনেকটাই বেড়েছে। বিশ্বের দুই জনবহুল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুই দেশকেই আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কথা উল্লেখ করে জিনপিং বলেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ভারত ও চিনকে একসঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহু-মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষেও দুই দেশকে কাজ করা উচিত বলে মত দেন তিনি।


