Aaj India Desk, কলকাতা: শালবনি জমি দুর্নীতি (Salboni Land Scam) মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সিআইডির (CID) প্রথম চার্জশিট। আর সেই চার্জশিটে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisek Banerjee) দুই প্রাক্তন পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার এবং সুজয় হাজরার (Sujay Hazra) গাড়ির চালকদের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
সিআইডির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, জমি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের টাকা সুমিত রায়ের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হত। এই বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে বয়ান দিয়েছেন অভিষেকের দুই প্রাক্তন PSO এবং দুই গাড়িচালক। তাঁদের বক্তব্যেই সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালতে শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি। সুজয় হাজরা-সহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। যদিও এই প্রথম চার্জশিটে সুমিত রায়কে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি। তবে তদন্তকারী সংস্থা তাঁর ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার দাবি তুলে ধরেছে।
চার্জশিটে মোট ২০ জন সাক্ষীর বয়ান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন PSO এবং সুজয় হাজরার গাড়ির চালক-সহ দুই চালকের বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের সময় BNSS-এর ১৮০ ধারায় তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়।
সিআইডির দাবি, তদন্তে পাওয়া নথি এবং সাক্ষীদের বক্তব্য থেকে সুমিত রায় ও আরও কয়েকজনের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সামনে এসেছে। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত লেনদেন থেকে পাওয়া টাকার একটি অংশ সুজয় হাজরার মাধ্যমে সুমিত রায়ের অফিসে পৌঁছত।
এই বিষয়ে আরও কয়েকজনের বয়ানও চার্জশিটে রাখা হয়েছে। জমি বিক্রির মধ্যস্থতায় যুক্ত দুই ব্যক্তি তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, জমি সংক্রান্ত কারবার থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ সুজয় হাজরার মাধ্যমে সুমিত রায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত।
এছাড়াও দুই স্থানীয় ব্যবসায়ী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তাঁরা একাধিকবার সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেন এবং টাকা হাতবদল হতে দেখেছেন। তাঁদের দাবি, সুমিত রায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভয় ও আতঙ্কের কারণে এতদিন তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি।
অন্যদিকে, সুজয় হাজরার গাড়ির চালকের বয়ানেও সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। ফলে জমি কারবারের টাকা কীভাবে এবং কার কাছে পৌঁছত, সেই বিষয়টি এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে এই মামলায় আগামী দিনে আরও পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। চার্জশিটে থাকা সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিআইডি। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও দেওয়া হতে পারে বলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে, এর আগেই সুমিত রায় সিআইডির কাছে সমস্ত তথ্য তুলে ধরার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুর্নীতি নিজের চোখে দেখেছেন বলে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন। তার পরেই শালবনি মামলার চার্জশিটে প্রাক্তন PSO এবং চালকদের এই বয়ান সামনে আসায় গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।


