Aaj India Desk, কলকাতা: আগামী পুরভোটে (Kolkata Municipal Election) তৃণমূল কংগ্রেসই জয়ী হবে বলে দাবি করলেন দলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সাংগঠনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকারের কাজ নিয়ে মানুষের অসন্তোষ এবং দলত্যাগী নেতাদের চলে যাওয়া এই সবকটি বিষয় তৃণমূলের পক্ষে কাজ করবে। তাঁর আরও দাবি, এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মানুষের আস্থা রয়েছে।
কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা পুরভোটে জিতবই। আগামী বছরে ফের আমাদেরই মেয়র গঠন হবে।” তাঁর দাবি, এই আত্মবিশ্বাসের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। একই সঙ্গে পুরভোটের আগে সংগঠনেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে মানুষ বিরক্ত’
তৃণমূল নেতার ব্যাখ্যায়, কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় থাকা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কুণালের কথায়, “মানুষ এই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উপর বিরক্ত। কেন্দ্র-রাজ্য দু’জায়গাতেই বিজেপির কাজে মানুষ ক্ষিপ্ত।” তাঁর মতে, এই অসন্তোষ আগামী পুরভোটে তৃণমূলের পক্ষে রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে। (Kolkata Municipal Election)
দলত্যাগ নিয়েও কুণালের ব্যাখ্যা
সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন কুণাল। দলত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকার দাবি করে তিনি বলেন, তাঁদের চলে যাওয়ায় তৃণমূলের সাংগঠনিকভাবে সুবিধা হয়েছে। কুণালের বক্তব্য, “তাদের চলে গিয়ে বরং ভালোই হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল, সেই অভিযোগের ভার দলীয়ভাবে বহন করতে হচ্ছিল আমাদের।” দলত্যাগের ফলে তৃণমূলের পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং সামনের সারির কর্মীরা আরও বেশি জায়গা পাবেন বলেও দাবি করেন কুণাল। তাঁর কথায়, “এখন তাদের চলে যাওয়াতে অনেক প্রবীণ অভিজ্ঞ নেতা এবং সামনের সারির কর্মীরা সামনে উঠে আসতে পারবেন। আমরা আবার ফ্রেশ হয়ে দলটাকে সাজাতে পারছি।”
পুরভোটে (Kolkata Municipal Election) তৃণমূলের সম্ভাব্য জয়ের আরেকটি কারণ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে তুলে ধরেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষের একটি অংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রাখেন। কুণাল বলেন, “মানুষ এখনও মমতা দিদিকেই চায়। মানুষের আস্থা আমাদের পাশেই আছে। ফলত আগামী ভোটে আমরাই জয়ী হব।”
তবে পুরভোটে তৃণমূলের এই জয়ের দাবি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই। আপাতত পুরভোটের আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশলের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


