Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ফের কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে (Kalighat Trinamool) তলব করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-পন্থী তৃণমূলকেই ডাকা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে তৃণমূলের দুই শিবিরের সঙ্গে শুনানি করে কমিশন। দুই পক্ষই নিজেদের দাবি সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেয়। তার পরেই ফের কালীঘাট তৃণমূলকে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টেয় নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির হতে হবে মমতা শিবিরকে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কমিশনের ইমেইল পৌঁছেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই পাঠানো হয়েছে চিঠি।
কিন্তু হঠাৎ কেন আবার ডাকল কমিশন? সূত্রের খবর, ১২ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে ঋতব্রত শিবির যে সমস্ত নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে, সেগুলি এবার কালীঘাট তৃণমূলকেও দেওয়া হয়েছে। ওই নথিগুলি খতিয়ে দেখে কমিশনের কাছে লিখিত জবাব দিতে হবে মমতা শিবিরকে। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টের মধ্যে সেই জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বরও ফের শুনানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই দিন বিকেল ৪টেয় দিল্লির অশোকা রোডে নির্বাচন কমিশনের অফিসে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ডাকা হতে পারে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৬ সেপ্টেম্বরই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা শিবির। এরপর থেকেই দলের আসল পরিচয়, নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়।
এখন প্রশ্ন, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগেই কি কমিশন ঠিক করে দেবে কোন শিবিরই আসল তৃণমূল? নাকি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দলের নাম ও প্রতীকই সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেওয়া হবে? সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


