Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভায় (Assembly) তৃণমূলের (TMC) কর্মসূচিতে বুধবার চোখে পড়ল বেশ অচেনা ছবি। দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রায় ৮০ জন বিধায়কের (MLA)। কিন্তু সেখানে দেখা গেল, অর্ধেকেরও বেশি বিধায়ক অনুপস্থিত। ফলে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের ভিতরে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে।
ভোট পরবর্তী হিংসা, হকার উচ্ছেদ, বুলডোজার অভিযান এবং সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ তুলে বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল বিধায়করা। তবে সেই কর্মসূচি মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। অনেক বিধায়ক কেন উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ব্যাখ্যা দেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ।
তিনি বলেন, সব বিধায়ককে একসঙ্গে বিধানসভায় বসিয়ে রাখলেই মানুষের সমস্যা মিটবে না। তাঁর কথায়, অনেক জায়গায় এখনও ভোট পরবর্তী অশান্তির প্রভাব রয়েছে। তাই বহু বিধায়ক নিজেদের এলাকায় থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, আজ কেউ বিধানসভায় প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন, আবার অন্যদিন অন্য বিধায়কেরা আসবেন এবং বাকিরা এলাকায় কাজ করবেন- এভাবেই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
বুলডোজার অভিযান নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, গরিব মানুষের উপর বুলডোজার চালানোর রাজনীতি নতুন নয়। অতীতেও সিপিএম আমলে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট গরিবের পেটে বুলডোজার কে চালিয়েছিল সেই প্রসঙ্গও তোলেন। পাশাপাশি বিজেপিকেও নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, এখন একইভাবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে সিপিএমের বিরুদ্ধেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পুরনো নেতাদের নতুন রূপে সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।


