Aaj India Desk, কলকাতা: গত ১৩ ই মে পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জারি করেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সেই বিধিনিষেধের বিরোধিতা করে আইনি ছাড় চেয়ে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
মহুয়ার (Mahua Moitra) দাবি, ঈদ-উল-আজহা চলতি মাসের ২৭ বা ২৮ মে পালিত হতে পারে। সেই কারণে সময় কম থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্তের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতেই এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
কোন ধারায় চাওয়া হয়েছে ছাড় ?
মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) জানান, তৃণমূল বিধায়ক জাকিরুজ্জামানের মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, Animal Slaughter Act-এর ১২ নম্বর ধারায় সরকারের বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে ঈদ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “উৎসবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে এই ছাড় চাওয়া হয়েছে।”
অর্থনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কার দাবি
মহুয়া মৈত্র আরও দাবি করেন, এই বিধিনিষেধের ফলে শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, গবাদি পশু পালন, দুধের ব্যবসা এবং পশু বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বহু হিন্দু ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষও সমস্যায় পড়তে পারেন। তাঁর বক্তব্য, “শেষ মুহূর্তে এমন নির্দেশে বহু মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
এই ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের মত, ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে জড়িত বহু ছোট ব্যবসায়ী, পশুপালক ও অন্যান্য মানুষের রোজগার এর উপর নির্ভর করে। ফলে শেষ মুহূর্তে কড়াকড়ি বা প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হলে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে আরেক অংশের বক্তব্য, পশু জবাই ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আইন এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা জরুরি। তাঁদের মতে, উৎসবের সময়েও প্রশাসনের নজরদারি থাকা উচিত যাতে অবৈধ জবাই বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ না ওঠে।
এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে উৎসবের আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ধর্মীয় আচার ও সংশ্লিষ্ট অর্থনীতির বিষয়টিও সামনে আসছে।


