Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার বদল হতেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাঠানো হয়। তবে সেই নামকে এখনও স্বীকৃতি দেননি খোদ বিধানসভার বর্তমান স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। ফলে বিধানসভা এখন বিরোধী দলনেতা শূন্য।
কেনো বিরোধিতা করলেন স্পিকার ?
স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় বৈঠকের রেজোলিউশন ও প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়ার কারণেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Sovandeb Chattopadhyay) বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিতে পারছেন না তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান, সর্বসম্মতিক্রমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সহকারী দলনেতা হিসেবে অসিমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নামও প্রস্তাব করা হয়।
তবে সচিবালয়ের দাবি, ওই চিঠির সঙ্গে কোনও রেজোলিউশন কপি বা বৈঠকের মিনিটস জমা দেওয়া হয়নি। ফলে কতজন সদস্য এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এমনকী বৈঠক কবে হয়েছিল, সেই তারিখও উল্লেখ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা পদে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
কী বলছে বিধানসভার আইন?
সচিবালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি মেম্বার্স এমোলিউমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৩৭’-এর বিধান অনুযায়ী বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই রয়েছে। কোনও দল কাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করছে, তা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়ার অধিকারও অধ্যক্ষের রয়েছে। অতীতেও এমন উদাহরণ রয়েছে বলে সচিবালয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
RTI এর পথে শোভনদেব
এই জটের মধ্যেই সক্রিয় হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। তিনি তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআইয়ের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন কীভাবে হয়েছিল এবং তখন কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। নিয়ম মেনেই সেই আরটিআইয়ের জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিধানসভা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রয়োজনীয় নথি সংক্রান্ত এই প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই আপাতত আটকে রয়েছে বিরোধী দলনেতা পদে স্বীকৃতির প্রক্রিয়া। নতুন করে রেজোলিউশন জমা না পড়া পর্যন্ত পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।


