Aaj India Desk, কলকাতা : বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজ্য জুড়ে ইডির সক্রিয়তায় সিঁটিয়ে আছেন নেতা মন্ত্রীরা। কয়লা ও গরু পাচারের পর এবার বালি পাচার মামলার তদন্তে আরও সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ঝাড়গ্রামে বেআইনি বালি তোলা ও পাচারের অভিযোগে তদন্ত চালাতে গিয়ে বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয় ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন অতিরিক্ত জেলা শাসক (ADM) আনসার শেখকে। সকালে ইডি দফতরে হাজিরা দেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ইডি
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আনসার শেখ ঝাড়গ্রামে এডিএম পদে থাকাকালীন বিভিন্ন নদীখাত থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা ও পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, লাইসেন্সবিহীন বালি উত্তোলনের ঘটনায় প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে থাকা একাধিক সরকারি নথি, অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ঝাড়গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তে উদ্ধার হয় ডিজিটাল নথি, মোবাইল ডেটা এবং কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, এই তথ্যের ভিত্তিতেই পাচার চক্রের আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক যোগাযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মালদাতেও বিতর্কে ছিলেন এই আমলা
বর্তমানে আনসার শেখ মালদা জেলা পরিষদের এডিএম পদে কর্মরত। সম্প্রতি মালদার মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায়ও তাঁর নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের তরফে তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। ফলে ঝাড়গ্রামের বালি পাচার তদন্তে তাঁকে ইডির তলব ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বালি পাচার মামলায় একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বেআইনি বালি ব্যবসার আর্থিক লাভ কারা পেয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক স্তরের যোগ রয়েছে কি না।


