Aaj India Desk, কলকাতা : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণের জন্য বহুদিন ধরে আটকে থাকা জমি হস্তান্তর (BSF Land Transfer) প্রক্রিয়া অবশেষে সম্পূর্ণ করল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিএসএফের হাতে জমি তুলে দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিএসএফের শীর্ষ কর্তারা। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ এই উদ্যোগকে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘদিন পর বিএসএফ, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে সীমান্ত এলাকার জমি হস্তান্তরের (BSF Land Transfer) কাজ সম্পন্ন করল।” তিনি জানান, সরকার গঠনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের প্রয়োজনীয় ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও বর্ডার আউটপোস্ট তৈরির জন্য মোট ৩২ একর সরকারি জমি বিএসএফকে (BSF Land Transfer) দেওয়া হয়েছে। এই জমি রয়েছে রাজ্যের ৯টি জেলায়। এছাড়া ৫টি জেলায় মোট ৪৩ একর ব্যক্তিগত জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে মোট ২৭ কিলোমিটার এলাকার জমি হস্তান্তরের সমস্ত ব্যয় বহন করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ভারতের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে ২২০০ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। অন্য সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি আগেই প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ করলেও পশ্চিমবঙ্গে তা দীর্ঘদিন আটকে ছিল। তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যে ১৬০০ কিলোমিটার এলাকায় সীমান্ত বেড়ার কাজ হয়েছে। বাকি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাজ থমকে ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার জমি আগের সরকার চাইলে বিএসএফকে দিতে পারত।”
বৈঠকে উপস্থিত বিএসএফের ডিজি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, জমি হাতে পাওয়ার ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং নারী ও শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যে এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট কাটিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ গতি পেল বলেই মনে করা হচ্ছে।


