ঝাড়গ্রাম: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ চলাকালীন ঝাড়গ্রামে হঠাৎ স্তব্ধ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। সকাল ৭ টা থেকে যথাযথ ভাবে প্রথম দফার ভোট শুরু হলেও সকাল ৯ টা নাগাদ এক বিশেষ অতিথির আবির্ভাবে থেমে যায় সেই প্রক্রিয়া। কোনো পরিচয়পত্র অথবা লাইনে দাঁড়ানোর কোনো বালাই না থাকলেও তাঁকে আটকাতে এল না কোনো নিরাপত্তারক্ষী। আপন খেয়ালে তিনি হেঁটে বেড়ালেন বুথের সামনে। তাঁর নাম রাম। না,তিনি ঈশ্বর রামচন্দ্র নন। তিনি ছিলেন ঝাড়গ্রামের গ্রামবাসীদের অতি পরিচিত হাতি, রামলাল।
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়গ্রাম জেলার জিতুসোল প্রাইমারি স্কুলে। সেখানে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল ভোটগ্রহণ। সেই সময় হঠাৎ করে রামলাল নামক হাতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে এসে পড়ে। স্থানীয়দের কাছে ‘রামলাল’ নামে পরিচিত ওই হাতিটিকে দেখে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, আবার কেউ ভিডিও করতে শুরু করেন। হাতিটি কিছুক্ষণ এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং একটি পণ্যবাহী গাড়ির কাছে গিয়ে উঁকি দেয়। তবে সে কারও উপর আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাচনকর্মীরা দ্রুত লোধাশুলি রেঞ্জের বনকর্মীদের খবর দেন। তাঁরা এসে রামলালকে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও নির্বাচন কমিশনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই অনলাইনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুরো ঘটনায় ভয়, উত্তেজনা, মজার সংমিশ্রণে কিছুক্ষণের জন্য জিতুসোল প্রাইমারি স্কুলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (west bengal assembly election 2026) ভোটগ্রহন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে সাময়িক বিঘ্নের পর ফের ঝাড়গ্রামে স্বাভাবিক ছন্দে শুরু হয় বিধানসভার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ।
উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রামের গ্রামঞ্চলগুলিতে প্রায়শই হাতিরা হানা দেয়। গ্রামগুলি জঙ্গলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এমন ঘটনা বিচিত্র কিছু নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (west bengal assembly election 2026) মধ্যে এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম। ইতিমধ্যেই হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘ঐরাবত’ নামে একটি বিশেষ দলও গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে এরা পুরো জেলায় নজর রাখছে।


