SPECIAL FEATURES
অনেকেই ভাবেন বারবার হাত ধোয়া, দরজার তালা বারবার পরীক্ষা করা বা জিনিসপত্র নিখুঁতভাবে সাজিয়ে রাখার অভ্যাস শুধুই একটু বেশি সতর্ক থাকার লক্ষণ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা কি বলছে জানেন, এই অভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে তা হতে পারে OCD (Obsessive-Compulsive Disorder)-এর ইঙ্গিত।
OCD একটি মানসিক স্বাস্থ্য রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবেই বারবার কিছু চিন্তা, ভয় বা উদ্বেগ দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অবসেশন’। সেই উদ্বেগ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে রোগী বারবার নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে বাধ্য হন, যাকে বলা হয় ‘কম্পালশন’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি যে লক্ষণগুলোর রয়েছে বারবার হাত ধোয়া, দরজার লক বা গ্যাসের নব বারবার দেখা, ঘরের জিনিসপত্র নির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে রাখার প্রবণতা এবং অযৌক্তিক কিছু ভুল – ভাল চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকা। অনেক সময় রোগীরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের চিন্তাগুলো অস্বাভাবিক, তবুও সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।
চিকিৎসকরা বলছেন, ওসিডিকে সাধারণ অভ্যাস ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা ব্যক্তিগত জীবন, কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন ওসিডিতে ভুগলে বিষণ্ণতা, উদ্বেগজনিত সমস্যা এবং প্যানিক অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
তবে স্বস্তির খবর, সঠিক চিকিৎসা এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ওসিডিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) এবং এক্সপোজার অ্যান্ড রেসপন্স প্রিভেনশন (ERP)-কে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করছেন। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধও দেওয়া হয়।
তাই নিজের বা পরিবারের কারও মধ্যে এমন লক্ষণ দেখা গেলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কারণ মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।


