SPECIAL FEATURE
তুমি হেরে যাচ্ছ, ডিপ্রেশন ছিনিয়ে নিচ্ছে আস্তে আস্তে তোমার মনের জোর। মনের জোর,’যা হবে ভালো হবে’ , ‘আমার চেয়েও মানুষ খারাপ ভাবে আছে’ ,এই কথাগুলোও আর শক্তি দিতে পারছে না।
ডিপ্রেশন ( depression) তোমায় দিচ্ছে একরাশ হতাশা।কোনো কারণ ছাড়াই মনে হচ্ছে এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার কথা। মনের ভেতরে ঢেকে রাখা কষ্টগুলোর আগল খুলে দিচ্ছে । কি করবে তুমি?এই ‘কি করবে ‘ কথাটার উত্তর এর পর অনেক ক্ষেত্রেই আত্মহত্যা! আর এই আত্মহত্যার দিকে যে রোগটা ঠেলে দেয় অবসাদ (depression)বা ডিপ্রেশন। ভারতে প্রায় ৪.৫% মানুষ এই রোগটার শিকার। যার সবথেকে বড় অংশ হল জেন জি।
“অবসাদ ? সেটা আবার কি খায় না মাথায় দেয়?”
মানুষের যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনি হয় মনের শরীর খারাপ । মন খারাপ বেশি সময় স্থায়ী হয় না, কিন্তু অবসাদ(depression) দীর্ঘস্থায়ী। প্রিয় খাবার, প্রিয় জিনিস , প্রিয় মানুষ কিছুই পারে না তা ঠিক করতে। আস্তে আস্তে একাকীত্ব গ্রাস করে , মানুষ ক্রমশ হেরে যেতে থাকে নিজের কাছে ,আস্তে আস্তে তলিয়ে যায় হয় মৃত্যুর অন্ধকারে। মূলত অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কাজের চাপ, পারিবারিক বা আর্থিক সমস্যা এর জন্য দায়ী। ফলে মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং অবসাদ দেখা দেয়।
“ডাক্তারবাবু আমি বাঁচতে চাই ”
রোগ হলে তার নিরাময় থাকবে, আর অবসাদ (depression)নিরাময়যোগ্য রোগ। তাই যদি মনে হয় অথবা দেখা যায় যে মন খারাপ মানসিক ক্লান্তি হতাশা যাচ্ছে না,আস্তে আস্তে কাজে উৎসাহ হারিয়ে যাচ্ছে, সবসময় খারাপ লাগা বা একাকীত্ব বোধ গ্রাস করছে, খাওয়া দাওয়ার ইচ্ছে চলে যাচ্ছে বা খুব বেশি খেতে ইচ্ছে করছে, ভুলেও হেলাফেলা না করে আগে মনোবিদ বা সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে যান। নির্দিষ্ট ওষুধ, ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেই অবসাদ থেকে মুক্ত হতে পারেন আপনি। পাশাপাশি যদি কারুর মধ্যে এই উপসর্গগুলো দেখেন তাহলে তার সাথে কথা বলুন। সাহায্য না করতে পারলেও অন্তত উপহাস করবেন না।কারণ এতে সেই মানুষটি আরো গুটিয়ে যায়, একা হয়ে যায়। যা কখনোই কাম্য নয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
একটা সময় জীবন অনেক সহজ ছিল, ছিল যৌথ পরিবার ,খেলার মাঠ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আরো অনেক কিছু। ছিল না সম্পর্কের অবনতি, মাত্রাতিরিক্ত পারিবারিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক চাপ। ফলে অবসাদের(depression) অস্তিত্ব ছিল না। আজ এই সবকিছুই খুব বাস্তব।এই অবস্থায় বাঁচতে নিজেকে ভালোবাসুন।রোগ নয়, জয় হোক জীবনের।


