Aaj India Desk, কলকাতা: টোটোর (Toto) দৌরাত্ম্যে সমস্যায় পড়ছেন বাস চালক থেকে শুরু করে বড় গাড়ির চালকেরাও। অনেক জায়গায় ব্যস্ত রাস্তার উপর টোটোর কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, একসময় টোটোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার পথেও হেঁটেছিলেন বাস চালকরা।
এবার জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে অনুমোদনহীন টোটো বা ই-রিকশার চলাচল বন্ধ করতে রাজ্য পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিল পরিবহন দফতর। এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG)-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পরিবহন দফতরের প্রধান সচিব রবীন্দ্র সিং গত ৭ অগস্ট রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টোটো চলাচল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।
পরিবহন দফতর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের G.S.R. 709(E) নির্দেশিকা অনুযায়ী ই-রিকশার মূল উদ্দেশ্য হল ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি’ বা যাত্রীদের স্থানীয়ভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ২০১৬ সালের নির্দেশেও নির্দিষ্ট কিছু স্থানীয় রাস্তা ছাড়া জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় মিলতে পারে।
পরিবহন দফতরের কাছে একাধিক অভিযোগ পৌঁছেছে যে, নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল করছে। এর জেরে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যস্ত রাস্তায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে দফতর।
এই পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে জাতীয় ও রাজ্য সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটোর চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে পুলিশকে। প্রয়োজনে নিচুতলার পুলিশ আধিকারিকদেরও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদনহীনভাবে টোটো চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট চালক বা মালিকের বিরুদ্ধে মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।


