Aaj lndia Desk, মুম্বই : ফুটবল মাঠে একের পর এক সাফল্য, রেকর্ড আর ট্রফির সাক্ষী ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেই প্রিয় মানুষটিকেই হারালেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর প্রয়াত আর্জেন্তাইন মহাতারকার বাবা হোর্হে মেসি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
মেসির ফুটবল-জীবনের শুরু থেকেই পাশে ছিলেন হোর্হে
লিওনেল মেসির বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার গল্পে তাঁর বাবার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলায় মেসির প্রতিভা চেনা থেকে শুরু করে ফুটবল কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ছেলের পাশে ছিলেন হোর্হে।
ছেলের পেশাদার কেরিয়ারের চুক্তি, ক্লাব সংক্রান্ত বিষয় এবং মাঠের বাইরের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রেও হোর্হের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মেসির ইউরোপীয় ফুটবলে পা রাখার সময়ও বাবাকে পাশে পেয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের গ্যালারিতেও ছিল পরিচিত মুখ
মেসির কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে প্রায়ই গ্যালারিতে দেখা যেত হোর্হেকে। ছেলের খেলা দেখা এবং তাঁকে উৎসাহ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই পরিচিত মুখ এবার আর গ্যালারিতে দেখা যাবে না। মেসির জীবনে তাই বাবার এই প্রয়াণ শুধু পারিবারিক শোক নয়, তৈরি করল এক গভীর ব্যক্তিগত শূন্যতা।
মৃত্যুর আগেই ছড়িয়েছিল হোর্হেকে নিয়ে ভুয়ো খবর
অদ্ভুতভাবে, হোর্হের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্তিনার স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম Luzu TV-র ‘El Show del Verano’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া লাইভে দাবি করেছিলেন, মেসির বাবা মারা গিয়েছেন। এমনকি সেই কারণে মেসি বিশ্বকাপের মাঝেই দেশে ফিরে যাবেন বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের বিবৃতির পর প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য
সেই সময় মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল, হোর্হে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি জীবিত এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। পরিবারের বক্তব্যের পরই ওই খবর ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়।
ভুয়ো খবরের জেরে কঠোর ব্যবস্থা Luzu TV-র
ঘটনার পর Luzu TV-র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ান এবং ওই সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যাকস্টেজ কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংবেদনশীল পারিবারিক বিষয়ে যাচাই না করে খবর সম্প্রচারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল চ্যানেলটি।
আর এবার সেই ভুয়ো খবরের কয়েক সপ্তাহ পর সত্যিই চলে গেলেন হোর্হে মেসি। মেসির জীবনের অন্যতম বড় ভরসার মানুষটির এই প্রয়াণ নিঃসন্দেহে তৈরি করল এক অপূরণীয় শূন্যতা।


