Aaj India Desk , মুম্বই : নাসিকের TCS -এর এক কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, যদিও এই অভিযোগ নতুন না TCS ভিন্ন অভিযোগ ধরা দিয়েছিল এর আগেও , তবে এবার এক তরুণীর দাবি, ২০২৩ সালের মে মাসে ইনডাকশন ট্রেনিং চলাকালীনই অভিযুক্ত রাজা মেমন তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা করেন।অভিযোগকারী জানান, ট্রেনিং পর্বেই বারবার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, যা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে। পরবর্তীতে এই আচরণ আরও বাড়ে বলেও তাঁর দাবি। শুধু তাই নয়, অফিসের মধ্যেই শরীর স্পর্শ, অশালীন ইঙ্গিত এবং অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ শুনেও শোনেনি প্রশাসন এমনই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এই ঘটনার পর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং কর্পোরেট দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, সংস্থার এইচআর ও অপারেশনাল ম্যানেজার অশ্বিনী চেনানি নাকি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন “কেন নিজেকে এই আলোচনায় আনতে চাইছ?” এবং বিষয়টি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।এই অভিযোগ সামনে আসতেই সংস্থার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেমনের আচরণ আরও অশালীন হয়ে ওঠে। তরুণীর দাবি, তাঁকে অনুসরণ করা, অপ্রয়োজনীয় শারীরিক স্পর্শ এবং জোর করে কথা বলার চেষ্টা এসবই নিয়মিত ঘটতে থাকে। ২০২৩ সালের জুনে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বরং তাঁকেই সতর্ক করা হয় অফিসে যেন একা না থাকেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি।
তরুণীর দাবি, হেনস্থার অভিযোগ জানানোর পরই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো হয় মিথ্যা গুজব, টার্গেট করা হয় ব্যক্তিগত জীবনকেও। এমনকি বিয়ের পর তাঁর প্রতি আচরণ আরও কটূ ও অশালীন হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছুটির আবেদন করলেও তাঁকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অস্বস্তিকর ও অশালীন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যা ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। চাপ, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এর পাশাপাশি, তরুণীর অভিযোগ সহকর্মীদের একাংশের সহযোগিতায় তাঁর উপর কাজের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, যেখানে সাধারণত প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একটি কল আসার কথা, সেখানে তাঁকে প্রতি সেকেন্ডে কল হ্যান্ডল করতে বাধ্য করা হচ্ছিল।একাধিক বার অভিযোগ জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষপর্যন্ত তিনি রাজা মেমন, শাহরুখ এবং অশ্বিনী চেনানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন কর্মক্ষেত্রে যদি এমন হেনস্থার অভিযোগ বারবার সামনে আসে, তা কি কর্মীদের কাজের পরিবেশকে ভেঙে দিচ্ছে না? মানসিক চাপ, অপমান আর অনিরাপত্তার মধ্যে একজন কর্মী কতটা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন?আরও বড় প্রশ্ন, TCS এর মতো একটি সংস্থা, যেখানে কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বারবার বলা হয়, সেখানে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে কি সেই সুরক্ষা বলয় আদৌ কার্যকর?এই পরিস্থিতিতে শুধু কর্মীদের নিরাপত্তাই নয়, কাজের মান ও কর্পোরেট সংস্কৃতি নিয়েও কি নতুন করে প্রশ্ন উঠছে না? নাকি এই অভিযোগই দেখিয়ে দিচ্ছে, ভিতরে কোথাও বড় ফাঁক থেকেই যাচ্ছে।


