Aaj India Desk, পুরুলিয়া: মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিলকে কেন্দ্র করে ফের বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া ও পুরুলিয়ায় নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি কংগ্রেস (Congress) ও তৃণমূল (TMC)-কে একসুরে নিশানা করেন। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, দুই দল একজোট হয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হতে দেয়নি। তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বাংলার নারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে রাজ্যের শাসকদল। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ুক, তা চায় না তৃণমূল।
মহিলা আসন সংরক্ষণ নিয়ে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় গৃহীত না হওয়াকে কেন্দ্র করে এর আগেও সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিরোধীরা নারীদের সম্মানে আঘাত করেছে, তাঁদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই উল্লাস করেছে।
এর পরদিন বাংলার মাটিতে এসে একই ইস্যুতে আবারও তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন মোদী। পুরুলিয়ার সভা থেকে তিনি বলেন, “তৃণমূলের আরেকটি দুর্নীতি সামনে এসেছে। দেশের মানুষ চান সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হোক। কিন্তু ভোটাভুটির সময় তৃণমূল তা সমর্থন করেনি।” তাঁর অভিযোগ, “মহিলা বিধায়কের সংখ্যা বাড়লে নারীদের পক্ষে আরও জোরালো কণ্ঠ উঠবে, সেই কারণেই এই বিলের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল।” বাংলার মানুষকে তিনি আহ্বান জানান, নির্বাচনে এর জবাব দিতে হবে।
বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভাতেও একই সুরে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি দাবি করেন, বাংলার মহিলাদের আবারও ঠকিয়েছে তৃণমূল। সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ুক, তা তারা চায় না। কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েই বিল আটকে দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থ দেখছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মহিলা ভোটাররা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সেই কারণে তৃণমূল আগেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প চালু করেছে। অন্যদিকে এবারের ভোটে বিজেপিও নারীকল্যাণকে বড় ইস্যু করেছে। দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে মহিলাদের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, গর্ভবতী মহিলাদের এককালীন অনুদান এবং ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’-এর মতো উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল পাশ না হওয়াকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। বাংলার নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই অস্ত্রই আরও ধারালো করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


