কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে প্রায় সব গেরুয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রের হেভিওয়েট নেতাদের প্রচারের ময়দানে নামিয়েছে বিজেপি (BJP)। ভোট ঘনিয়ে আসতে ক্রমেই বাড়ছে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারের তেজ। এই আবহে বাংলার মানুষের মনে, বাংলার সংস্কৃতিতে আদৌ অন্য রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা ঢুকতে পারছেন কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কেননা, বিহার বা উত্তরপ্রদেশ সহ গো-বলয়ের রাজ্যগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের যে বিস্তর ফারাক তা ২০২১-এর ভোটেই টের পেয়েছিল বিজেপি (BJP)। এই নির্বাচনে তাই বাংলা-বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করে পুরদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন কেন্দ্রীয় সুপ্রিমোরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ঝাল মুড়ি’ খাওয়ার ভাইরাল ছবি তারই অন্যতম প্রমাণ। কিন্তু এসবের মধ্যেও বাঙালি ইতিহাস, আবেগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকতে বিজেপির যেঁ একটি ফাঁক রয়ে গেছে, তারই প্রমাণ মিলল যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adhityanath) জনসভায়।
কি ‘ভুল’ করে ফেললেন আদিত্যনাথ?
“তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”, নেতাজির উদ্ধৃত এই উক্তি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ইতিহাসে শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বাঙালি সহ ভারতবর্ষের সকল সচেতন নাগরিকের কাছে এখনও রক্ত গরম করান ‘বীজমন্ত্রের’ সমান। কিন্তু জয়পুরের জনসভায় সেই উদ্ধৃতি উল্লেখ করতে গিয়েই বড়সড় ভুল করে ফেললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adhityanath)। নির্বাচনী জনসভায় এই উদ্ধৃতি ‘স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন’ বলে উল্লেখ করেন যোগী আদিত্যনাথ।
ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল
ফের ভোটের আবহে বাঙালি ‘মনীষীদের অপমান’-কে অস্ত্র করে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এক্সে যোগী আদিত্যনাথের ওই বয়ানের একটি অংশ পোস্ট করে তৃণমূল লেখে, “যোগী আদিত্যনাথ আবারও বিজেপির চরম অজ্ঞতা এবং বাংলার ইতিহাসের প্রতি তাদের অবজ্ঞার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন”।
X Link: https://x.com/AITCofficial/status/2046202458767298743
তৃণমূলের পোস্টটিতে আরও লেখা হয়, “স্বামী বিবেকানন্দ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মধ্যে পার্থক্যটুকুও তারা বোঝেন না। তারা ভুল ব্যক্তির নামে উক্তি চালিয়ে দেন। স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে মালা পরানোর সময়ও তারা তাঁকে ‘নেতাজি’ বলে সম্বোধন করেন। আর এত কিছুর পরেও, সেই একই ব্যক্তিদের কিনা “সোনার বাংলা” গড়ার স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস হয়!” এই বিষয়ে যদিও এখনও বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের মাত্র দু-দিন আগে কটাক্ষ এবং পাল্টা কটাক্ষের পালা চরমে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।


