নয়াদিল্লি: সংসদে ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ পাশের ভোটাভুটিতে হারের পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এই হারকে ‘সৎ প্রচেষ্টার ভ্রুনহত্যা’ বলে উল্লেখ করলেন তিনি। কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টির মত বিরোধীরা একুশ শতকের নারীদের অপমান করেছে, দেশকে বিভ্রান্ত করেছে, তাঁরা নারী বিদ্বেষী বলে তোপ দাগলেন তিনি।
‘সুযোগ ছিল’
এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বলেন, “এই বিলের বিরোধিতা করে নারী শক্তির কাছে নিজেদের মুখোশ খুলে দিয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের কাছে সুযোগ ছিল, নিজেদের উপর থেকে নারী বিদ্বেষী কলঙ্ক দূর করার। কিন্তু সেই সম্ভাবনা, সুযোগ হারাল তাঁরা”। এটা বিরোধীদের বিভাজনের রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেন মোদী (Narendra Modi)। ‘সংশোধনের নাম শুনলেই কংগ্রেস বিরোধিতা শুরু করে। তাতে বাধা দেওয়ার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। এইভাবেই তিন তালাকের বিরোধিতা করেছিল তাঁরা’, বলেন মোদী। এই বিলের বিরোধিতা করে নিজের রাজ্যের মানুষদের সঙ্গেই বেইমানি করেছে তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধীরা।
১২ বছরে প্রথম ব্যর্থতা
বলা বাহুল্য, বিগত ১২ বছরে এই প্রথম সংসদে কোনও বিল পাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রের শাসক শিবির এনডিএ। এই হার জে এত সহজে জহম করবে না, তার ইঙ্গিত শুক্রবার থেকেই দিতে শুরু করেছিল বিজেপি। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই বছর বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে এই হারকে ‘মহিলা কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করবে বিজেপি, বলে জানাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, বিরোধী শিবিরের তরফে পাল্টা দাবী করা হচ্ছে, যে তাঁরা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধী নয়। কিন্তু ডিলিমিটেশন-এর সঙ্গে এটিকে মেলানোর বিরোধী। এই প্রসঙ্গে এদিন মোদী বলেন, ডিলিমিটেশন হলে সব রাজ্যে সমানভাবে বিধানসভা কেন্দ্র বন্টন হত। কিন্তু সেই পথেও বাধা দিল বিরোধীরা।


