Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে ফের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কেএলও-র (KLO) কমান্ডার ইন চিফ জীবন সিংহ (Jeevan Singha)। মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করে হুঁশিয়ারির সুরে বার্তা দিয়েছেন তিনি। গোপন আস্তানা থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-কে নিশানা করে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেন জীবন সিংহ।
জীবন সিংহের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজবংশী সমাজের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তিনি বলেন, কোচবিহারের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন কোচবিহারকে ভাগ হতে দেবেন না, কিন্তু তাঁদের দাবি একেবারেই আলাদা। জীবন সিংহের কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস রাজবংশী বিরোধী শক্তি এবং অতীতে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, যদি আবার তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরে, তবে রাজবংশী সমাজের উপর নতুন করে নির্যাতন নামতে পারে। সেই কারণেই তাঁরা যে কোনও মূল্যে কোচবিহার রাজ্য ‘উদ্ধার’ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
একইসঙ্গে আলাদা রাজ্যের দাবিকে সামনে রেখে কোচবিহার জেলার সমস্ত আসনে বিজেপি (BJP) প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জীবন সিংহ। তাঁর দাবি, বিজেপি জয়ী হলে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথ অনেকটাই সহজ হবে। এই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে বিজেপিকে সমর্থনের বার্তা দিয়েছিলেন। বিধানসভা ভোটের আবহে জীবন সিংহ দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আশ্বাসে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পরই বিজেপির প্রতি সমর্থনের সুর আরও জোরালো হয়। প্রথমদিকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৪০ জন প্রার্থী দিয়েছিল কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ব্যাপক রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। অমিত শাহের আশ্বাসের পর নিজেদের প্রার্থীদের প্রচার বন্ধ করে বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।


