নয়াদিল্লি: থমকে গেল কেন্দ্রের বহু প্রতিক্ষিত উদ্যোগ! লোকসভার ভোটাভুটিতে বড় ধাক্কা খেলো মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill)। সূত্রের খবর, দীর্ঘ আলোচনা ও তীব্র বাদানুবাদের পর ভোটাভুটিতে ২৯৮ বনাম ২৩০ ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হতে ব্যর্থ হয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংখ্যার লড়াই নিয়ে জল্পনা চললেও, ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারল না এই বিতর্কিত প্রস্তাব।
জানা গিয়েছে, শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (NDA) বিলটি পাসের জন্য ৩২৬টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। ভোটাভুটিতে মোট ৫২৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। এই বিলের মুল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী এলাকা বা আসন পুনর্বিন্যাস করার জন্য জনগণনাকে বাইপাস করা। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিলটি প্রত্যাহার করার পর অধিবেশন আগামীকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।
কি প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র?
বস্তুত, ১৬ এপ্রিল অর্থাৎ গতকাল থেকে শুরু হওয়া সংসদীয় অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বর্ধন অধিনিয়ম’ এ সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলছিল। এই আইনে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণের (Women’s Reservation Bill) প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলির লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংরক্ষণ কার্যকর করা। পাশাপাশি লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাবও রাখা হয়, যাতে সংরক্ষণ বাস্তবায়ন সহজ হয়। এ জন্য সর্বশেষ জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করার পরিকল্পনাও ছিল, যা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ছিল।
বিরোধীদের বিরোধিতা
এই বিল পাশ নিয়ে একাধিক বিরোধী দল সংসদে এই সংশোধনীর বিরোধিতা করে এবং কেন্দ্রকে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এই প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, এই বিল দেশের নির্বাচনী কাঠামো বদলানোর চেষ্টা। তিনি দাবি করেন, “আমরা লোকসভায় এই বিলকে পরাজিত করেছি। এই বিল মহিলাদের উন্নয়নের জন্য নয়, বরং নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।” পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বলেন, এতে বিরোধীরা সহযোগিতা করবে।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই সংশোধনী বিল (Women’s Reservation Bill) মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে আনা হয়েছিল এবং বিরোধীরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে তাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।


