Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এবার ২% থেকে ৪% পর্যন্ত DA বাড়তে পারে। একইসঙ্গে, বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে DA দেওয়ার কথা তুলে ধরা হওয়ায়, এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনের আবহে DA ইস্যুতে জোর
নির্বাচনের আগে রাজ্যে DA (Dearness Allowance) ইস্যু ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে DA দেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের সম্ভাব্য DA বৃদ্ধি রাজ্যের শাসক দলের উপর চাপ বাড়াতে পারে বলে মত একাংশের।
৮ম পে কমিশন: কবে থেকে কার্যকর?
কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৮ম পে কমিশন গঠন করেছে। যদিও চূড়ান্ত সুপারিশ ২০২৭ সালের মধ্যে আসার কথা, নিয়ম অনুযায়ী এর কার্যকারিতা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ধরা হতে পারে। ফলে কর্মীরা বকেয়া (arrears) পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী স্বস্তি হিসেবে আরও একবার DA বাড়ানো হতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী, CPI-IW সূচকের ভিত্তিতে DA (Dearness Allowance) নির্ধারিত হয়। সম্ভাব্য বৃদ্ধির হিসাব বলছে—
- বেসিক ১৮,০০০ টাকা হলে: মাসে বাড়তে পারে ৩৬০–৫৪০ টাকা
- বেসিক ৫৬,১০০ টাকা হলে: বাড়তে পারে ১,১০০ টাকার বেশি
- উচ্চপদে (২.৫ লক্ষ বেসিক): বাড়তে পারে ৫,০০০–৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত
এতে কেন্দ্রীয় DA-এর হার ৫০% পেরিয়ে ৫৩%–৫৪% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভোটের মুখে চাপে পড়তে পারে রাজ্যে ?
রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে DA নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বহুদিন ধরেই আন্দোলনও চলছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্য সরকার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক পক্ষের তরফে অর্থনৈতিক চাপের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। শুধু DA নয়, বিজেপি ঘোষণা করেছে ক্ষমতায় এলে দেড় মাসের মধ্যে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হবে।দলের দাবি, অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে DA দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও একই মডেল অনুসরণ করা হবে।
এই সমস্ত ঘোষণার ফলে ভোটের মুখে চাপে পড়তে পারে রাজ্যের শাসক দল। নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রের সম্ভাব্য DA বৃদ্ধি এবং পে কমিশন ইস্যু রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। কর্মীদের দাবির সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে এই ইস্যু ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


