Aaj India Desk, কলকাতা : ৫ জুন কলকাতা পুরসভার মেয়র (Kolkata Mayor) পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। “নিধিরাম সর্দার” হয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকতে চান না বলে পদ ছাড়েন তিনি। কিন্তু তারপরেই কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। পুরবোর্ড বহাল থাকবে নাকি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই রবিবার বিকেল ৩টায় তৃণমূল ভবনে কলকাতার কাউন্সিলর ও দলের পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই পুরসভার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
মেয়র পদে কে?
তৃণমূলের অন্দরে নতুন মেয়র (Kolkata Mayor) নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এই মেয়র পদের জন্য উঠে এসেছে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮ বছর তিনি কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে থেকে দায়িত্ব সামলেছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর তিনি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন।
যদিও বর্তমানে তিনি কাউন্সিলর নন, তবুও বিদ্যমান কলকাতা পুর আইন অনুযায়ী কলকাতার যে কোনও নাগরিক মেয়র (Kolkata Mayor) হতে পারেন। সেক্ষেত্রে মেয়র পদে বসার পর তাঁকে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হতে হবে। ফলে আইনগতভাবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মেয়র হওয়ার পথে কোনও বাধা নেই।
নানা মুনির নানা মত
তবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নামই যে মেয়র পদের জন্য স্থির করা হয়ে গেছে এমনটা নয়। তৃণমূলের একাংশ চায় বর্তমান ডেপুটি মেয়র অথবা মেয়র-পরিষদের কোনও সদস্যকে মেয়র করা হোক। এতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তাঁদের মত। ফলে নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে একাধিক মত সামনে এসেছে। রবিবারের বৈঠক এই জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার আগেই কলকাতা পুরসভার পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা সেরে নিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই কলকাতার কাউন্সিলর ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এখন নজর রবিবারের বৈঠকের দিকে। পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ, নতুন মেয়রের নাম এবং কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কি হবে তার উত্তর মিলতে পারে সেখানেই।


