Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা প্রকাশ করল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের জন্য ‘সাক্ষী’ (Saakshi) নামে একটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ চালুর ঘোষণা করা হয়।
সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনের শুরু থেকেই কপিল সিব্বলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং আইনি পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর সরকার পৃথকভাবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, শুরু থেকেই ছাত্রদের জন্য আইনি ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনে দ্রুত আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে CJP জানায়, দেশের প্রতিটি জেলায় জনস্বার্থে কাজ করা প্রবীণ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী আইনি সেল গঠন করা হচ্ছে।এছাড়াও ‘সাক্ষী’ (Saakshi) নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই পোর্টালে সাধারণ মানুষ বা ছাত্ররা পুলিশের লাঠিচার্জ, মারধর বা হয়রানির ছবি ও ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। সেই তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের মারমুখী আচরণ নিয়ে তাদের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পথে জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সংগঠন।
অন্য মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে বলে তাদের দাবি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তরমন্তর এবং দেশজুড়ে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন মামলা দায়ের করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। তিনি আরও জানান, এই শর্তগুলির একটি লিখিত খসড়া ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত চুক্তির কপি পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে সংগঠন। আইনজীবীদের সম্মতিতে সেই চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।


