Aaj India Desk,কলকাতা: তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ঘাসফুল’ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ফের নতুন মোড়। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন( Election Commission)- এর জমা দেওয়া ১৪ পাতার চিঠির কপি এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর কাছেও পাঠিয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। দলীয় সূত্রের দাবি, ইমেল এবং স্পিড পোস্ট দুই মাধ্যমেই ওই চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে। তবে মমতাপন্থী শিবিরের অভিযোগ, ঋতব্রতপন্থীরা কমিশনে যে নথি জমা দিয়েছেন, তার কপি এখনও তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি।
সূত্রের খবর, আগামী দিনে এই বিতর্কে দুই পক্ষকেই শুনানির জন্য ডাকতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ‘ঘাসফুল’ প্রতীক এবং দলীয় পরিচয় নিয়ে চলা আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে।
সোমবার নির্বাচন কমিশনে যান মমতাপন্থী শিবিরের তিন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। কমিশনে ১৪ পাতার জবাব জমা দেওয়ার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশন যে ব্যাখ্যা চেয়েছিল, তার উত্তরই তাঁরা জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তথাকথিত ‘নব্য তৃণমূল’ গঠনের অভিযোগ তুলে যে আবেদন করেছেন, তারই বিস্তারিত জবাব দেওয়া হয়েছে এই চিঠিতে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ঋতব্রতপন্থীদের অন্যতম দাবি হল, ২০২২ সালে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই দাবি আইন ও দলের সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই তাঁদের বক্তব্য।
মমতাপন্থী শিবিরের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পায়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজিত পাঁজা আইন মেনে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করেন এবং ‘ঘাসের উপর জোড়া ফুল’ প্রতীক বরাদ্দের আবেদন করেন। একই বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সেই প্রতীক অনুমোদন করে। এরপর ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ২০০০ সালে দলটির নাম পরিবর্তন করে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনও সেই নামকে স্বীকৃতি দেয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে দলের কমিটির মেয়াদ চার বছর করা হলেও ২০০৬ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা পাঁচ বছরে বাড়ানো হয়। সেই পরিবর্তনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। তাই বর্তমান ওয়ার্কিং কমিটির বৈধতা নিয়ে ঋতব্রতপন্থীদের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলেই দাবি করেছে মমতাপন্থী শিবির। এখন এই বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের শুনানি ও সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


