Aaj India Desk, কলকাতা : কালীগঞ্জে হামলার অভিযোগ তুলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সেই মামলায় জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও তা গ্রহণ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, মামলাটি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই শুনানির তালিকায় আসবে।
গত ১ জুলাই কালীগঞ্জে তৃণমূলের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর দাবি, স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম, পোড়া বেগুন ও ইট ছোড়েন এবং স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মহুয়ার দাবি, তাঁর অভিযোগের তুলনায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ বেশি সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
নদিয়ার কালীগঞ্জে এই হামলার ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদন জানান। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা জনতার হেনস্তার ঘটনাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে। সেই অবস্থায় বজায় রেখেই বিচারপতি বলেন, “এই ধরনের মামলা গ্যালন গ্যালন দায়ের হচ্ছে। তার মধ্যে এই মামলাকে আলাদা করে জরুরি তকমা দেওয়া যাবে না।” তিনি স্পষ্ট জানান, মামলাটি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তালিকাভুক্ত হবে এবং সেই অনুযায়ী শুনানি হবে।
অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে মামলাটি উল্লেখ করলে আদালত একই দিন দুপুর ২টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করে। জমি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের আগাম জামিনের আবেদন দ্রুত শুনানির আর্জিও আদালতে ওঠে।
একই দিনে তিনজন তৃণমূল নেতার তিনটি পৃথক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এবার আদালত এই মামলাগুলোয় কী রায় ঘোষণা করে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


