Aaj India Desk, মালদহ: সরকারি প্রাথমিক স্কুল (Praimary School)-এর জমি দখল করে যুব তৃণমূলের পার্টি অফিস (TMC Party Office) এবং একটি মার্কেট কমপ্লেক্স (Market Complex) তৈরি করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহে (Malda)। অভিযোগ, স্কুলের জায়গা ব্যবহার করে দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলি বরাদ্দ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্কুলের প্রায় ২৭ শতক জমির উপর এই অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। ফলে স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, সরকার বদলের পর এবার অবৈধ দখল সরানোর দাবি উঠেছে। আশ্চর্যের বিষয়, এই দাবি তুলেছেন তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানই। তিনি জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়ে বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার আর্জি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি মালদহের রতুয়া-২ ব্লকের শ্রীপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারগঞ্জ এলাকার কুমারগঞ্জ নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে। অভিযোগ, স্কুলের জমির উপর প্রথমে যুব তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস তৈরি করা হয়। পরে তার পাশেই গড়ে ওঠে একটি মার্কেট কমপ্লেক্স। অভিযোগের তির এলাকার তৃণমূল নেতা মহব্বত আলির দিকে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে তারা আগে একাধিকবার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, শিক্ষা দফতর এবং ডিআই অফিসে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ হয়নি।
শ্রীপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনিকুল হক জানান, তিনি জেলাশাসকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, জমি মাপজোক করে যতটা অংশে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে, তা দ্রুত ভেঙে ফেলা হোক। তিনি আরও বলেন, আগেও এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মালদহ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, সরকারি জমি দখল করে কোনও নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীরও বক্তব্য, সরকারি জমিতে যদি বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকে, তাহলে নিয়ম মেনেই তা ভেঙে দেওয়া উচিত এবং এতে কাউকে কোনও ছাড় দেওয়া যাবে না।


