Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুরে (Baruipur Case) ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ (Gang Rape) ও খুনের ঘটনায় এখনও থমথমে গোটা এলাকা। এই ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখতে এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ, মঙ্গলবার বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে বারুইপুরের পুলিশ সুপারের (SP) দফতরে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। তবে সফরে রওনা হওয়ার আগে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তের অগ্রগতি এবং এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য সামনে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেন তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছায় বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের পদক্ষেপে নির্যাতিতার পরিবার সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করার সময় নয়।” একই সুরে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে পরিবারের সদস্যরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনের মামলার পাশাপাশি এবার গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ কী ছিল এবং এর পিছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে আদালতের নির্দেশে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে আজ (মঙ্গলবার) আদালতে তোলা হচ্ছে।
গত রবিবার বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং প্রতিবাদের জেরে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীকে খুনের সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে মোট চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার বাবার সমস্ত দাবি পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।


