নয়াদিল্লি: দেশকাঁপানো সফল আন্দোলনের পর ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকের (Abhijit Dipke) বিদেশে পড়াশোনা করার টাকা কোথা থেকে এল সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমনকি তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আওতায় তাঁর বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে প্রশ্ন তলা হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, বাবার সীমিত আয়ের পরিবারের পক্ষে বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? এই নিয়েই মামলা ও বিতর্কের সূত্রপাত।
সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারির করা RTI-তে দাবি করা হয়েছিল, মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত বাবার মাসিক ৬০-৬৫ হাজার টাকার বেতনে কীভাবে আমেরিকায় পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হয়েছিল, তা তদন্ত করা হোক। এর জবাবে অভিজিৎ (Abhijit Dipke) জানান, তাঁর পড়াশোনার খরচ বহন করেছে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ এবং বাকি প্রয়োজন মেটাতে তিনি এডুকেশন লোন নিয়েছিলেন, যা এখন পরিশোধের পর্যায়ে।

নিজের দাবির সমর্থনে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া স্কলারশিপের নথিও প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিবারের অর্থে নয়, নিজের মেধার জোরে বৃত্তি (স্কলারশিপ) পেয়ে আমেরিকায় পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন, বলে সাফ জানালেন দিপকে। তাঁর কথায়, বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা তিনি শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমেই পেয়েছেন। তাঁর (Abhijit Dipke) দাবি, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা, দেশে ফিরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে আন্দোলন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) গঠন, এই সব কিছুর জেরে গত কয়েক মাসে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke) । ৩৭ দিন দাঁতে দাঁত চেপে যন্তর মন্তরে লড়াইয়ের পর নিজেদের অবশেষে জয়ী হয়েছেন আরশোলারা। আর তারপরই তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি মেধা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে কিছু মানুষ। আন্দোলন চলাকালীনই বিদেশী মদত, আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে বিদেশী আর্থিক মদত রয়েছে, এমন কোনও সূত্র তাঁরা পাননি।
পাশাপাশি, এই বিষয়ে অভিজিতের (Abhijit Dipke) সাফ বক্তব্য, “কীসের বিদেশি সাহায্য? সাহায্য তো আমাদের করেছেন সাধারণ মানুষ। এমনকী দিল্লি পুলিশের কেউ কেউ নিজেদের পরিচয় গোপন করে আমাদের জলের বোতল এগিয়ে দিয়েছেন। তাঁরাও চেয়েছেন, নিট কেলেঙ্কারি থেকে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হোক। তাই ভিতরে ভিতরে আমাদের সাহায্য করেছেন।”


