Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) পুরনো নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’(AITC) এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার সেই পদক্ষেপ নিয়েই তাঁকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর দাবি, আগামী দিনে মমতার সময় আদালতে যাতায়াত করেই কেটে যাবে।
রবিবার কোচবিহারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাকি জীবনটা আদালতে যেতে যেতেই কেটে যাবে। কে আটকেছে? হাইকোর্টে যান, সুপ্রিম কোর্টে যান, রাষ্ট্রপুঞ্জে যান।” একইসঙ্গে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, “নিজের প্রার্থীই ছেড়ে পালিয়ে যায়, আর আপনি সরকারের কথা বলছেন?”
তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যুক্ত করা হয়েছে। এখন এই মামলার শুনানির দিকেই নজর রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে। তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকেই আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্য শিবিরের নাম রাখা হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘খাম’। তবে এই ব্যবস্থা আপাতত উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কার্যকর থাকবে।
কমিশনের সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস’ বলে মন্তব্য করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। ভোটের গণনা এবং এসআইআর-এ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মমতার দাবি, এর আগে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং শরদ পওয়ারের এনসিপির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সেই পথেই এগোনো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। মমতার পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
এই পরিস্থিতিতেই মমতার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াকে নিশানা করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এখন মমতার সামনে আদালতে যাওয়ার পথই খোলা রয়েছে। সেই পথেই তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে তৃণমূলের পুরনো নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


