Aaj lndia Desk,কলকাতা: রাজ্যে জঙ্গি দমন অভিযানে ফের বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতারের পর এবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য রাই নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। এসটিএফ সূত্রের দাবি, হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আদিত্যর নাম সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে দাবি তদন্তকারীদের
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক দাবি, আদিত্য রাই হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করত। নিজের পরিচয় গোপন রেখে সে হামিমকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করত। তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের গতিবিধি, ব্যক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বও নাকি আদিত্যর উপরেই ছিল। সেই তথ্য নিয়মিত হামিম ও অর্পিতা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।
অনলাইন গেমিং অ্যাপ থেকে পরিচয়, তারপর মগজধোলাই
এসটিএফের তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে পরিণত হয় এবং পরে আদিত্যকে জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাজে যুক্ত করা হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান। এমনকি, মন্ত্রীপুত্রকে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে অপহরণের পরিকল্পনাও এই চক্রের ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এই অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলছে।
বর্ধমান থেকে শুরু, হাওড়ায় নতুন গ্রেফতারি
গত সপ্তাহে বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসনের জিম থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে ধরা পড়ে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই আদিত্যর নাম সামনে আসে। এরপর হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসটিএফ তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে।
পিলখানার ভাড়াবাড়ি থেকে বিলাসবহুল আবাসনে হামিমের উত্থান
তদন্তে হামিম মণ্ডলের জীবনযাত্রার পরিবর্তনও নজরে এসেছে। দীর্ঘ ১২ বছর হাওড়ার পিলখানার আলাম মিস্ত্রি লেনের একটি ভাড়াবাড়িতে পরিবার-সহ থাকত সে। বাবার সঙ্গে পোশাকের বোতাম ও টিপ তৈরির ছোট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিল। পরে নিউটাউনে কিছুদিন থাকার পর বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস, নথি ও বয়ান খতিয়ে দেখে এই নেটওয়ার্কে আর কারা জড়িত, কার নির্দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল এবং এই চক্রের বিস্তার কতদূর, তা খতিয়ে দেখছেন এসটিএফের তদন্তকারীরা।


