Aaj lndia Desk, কলকাতা: রাত তখন প্রায় ৮টা। বিজয়গড়ের বাড়ির সামনে আচমকাই বিপুল লোকজনের জমায়েত। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় হইচই, গালিগালাজ এবং ভাঙচুর। ভেঙে দেওয়া হয় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা। এমনকি পরিবারের এক সদস্যকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে শনিবার রাতের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দেবব্রত মজুমদারের অভিযোগ, রাত ৮টা নাগাদ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন তাঁর বাড়ির সামনে এসে হামলা চালান। বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাদাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের। ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দেবব্রত মজুমদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পর হামলার পিছনে বিজেপির যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন দেবব্রত মজুমদার। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিত সরকারও ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন।
এরপর বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। দেবব্রত মজুমদার একসময় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)-র দাবি, দেবব্রত মজুমদারের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরিবারের বাড়িতে বিজেপির কোনও স্থানীয় কর্মী গিয়ে হামলা চালাবেন এমনটা সম্ভব নয়। বরং বিজেপির নাম ব্যবহার করে কেউ এই হামলা চালিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, পার্টি অফিস বা শহিদ বেদি ভাঙচুরের মতো ঘটনাকে বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে দেখা যায় না। গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
ফলে একদিকে দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির তরফে সম্পূর্ণ অস্বীকার শনিবার রাতের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল। হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে সংশ্লিষ্ট মহল।


