32 C
Kolkata
Friday, May 8, 2026
spot_img

“ভাইপো শব্দটাই দলের সর্বনাশ করেছে”-ভোটে ভরাডুবির পর বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল নেতার

Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের (TMC) ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণ তিওয়ারীর (Kalyan Tiwari)।

কল্যাণ তিওয়ারীর অভিযোগ, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর থেকেই দলের মধ্যে ভয় আর চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, রাত হলেই আই-প্যাক থেকে ফোন আসত। বলা হত, কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না, যেকোনও সময় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। দল ছাড়ার কথাও ভাবা যেত না, কারণ পুলিশি চাপের ভয় দেখানো হত বলেও অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও বলেন, কোন নেতার সঙ্গে কথা বলা যাবে, কার সঙ্গে মিশতে হবে-এসবও নাকি ঠিক করে দেওয়া হত। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এক বিধায়ককে বাড়ির বাইরে কলম ও কোমরের বেল্ট খুলে রেখে ভিতরে ঢুকতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

কল্যাণ তিওয়ারীর কথায়, “আমরা বহুদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু পরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যে অভিষেককে ‘দাদা’ বলতেই হত। অভিষেকের গুরুত্ব বাড়তেই শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়লেন। কে কার সঙ্গে দেখা করছে, সেটাও পুলিশ খোঁজ নিত। আই-প্যাক ঠিক করে দিত কী করতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের মধ্যে ‘ভাইপো’ শব্দটাই শেষ পর্যন্ত সর্বনাশ ডেকে এনেছে। বিভিন্ন সভা-মিছিলের জন্য পুরসভার চেয়ারম্যানদের টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হত, কিন্তু সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, তার কোনও উত্তর মিলত না।

কল্যাণ তিওয়ারীর দাবি, ভোটের পর তৃণমূলের কোনও বড় নেতা কর্মীদের খোঁজই নেননি। কর্মীরা কেমন আছেন, কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তা দেখারও কেউ ছিল না। এরপরই তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “এবার রাস্তায় নেমে রাজনীতি করে দেখান, কতটা দম আছে দেখা যাবে।” এই পুরো বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করতে শোনা যায় কল্যাণ তিওয়ারীকে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন