Aaj India Desk, কলকাতা: দীর্ঘদিনের মমতার শাসনের পতন ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। শুক্রবার বিকেলে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অমিত শাহ ঘোষণা করলেন বঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর নাম। পরিষদীয় দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বেছে নেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকেই (Suvendu Adhikari)। নাম ঘোষণার পরেই লোকভবনে যান তিনি। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল সকাল ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ একাধিক এনডিএ নেতা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বার বার উঠে এসেছিল শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) নাম। এমনকি শীর্ষ নেতারাও তাঁকেই এই পদের জন্য সমীচীন মনে করেন বলে জানানো হয়েছে দলের তরফে। অনুষ্ঠানে নাম ঘোষণা করতে গিয়ে অমিত শাহ জানান, ‘পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে প্রথমে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হয়। সেই নাম প্রস্তাবের পর দ্বিতীয় নাম চাওয়া হয়। কিন্তু আর কোনও নামই আসেনি। শুভেন্দু অধিকারীকে সর্বসম্মতিতে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।”
কারা থাকছেন মন্ত্রিসভায়?
মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হলেও মন্ত্রিসভা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বার্তা দেয়নি বিজেপি। তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের মিশ্রণ রাখা হতে পারে। বিজেপির রাজ্য সংগঠনের একাধিক পরিচিত মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও দক্ষিণবঙ্গের আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক লড়াই থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বহুদিন ধরেই প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তৃনমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি পরিবহন ও জলসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হলেও পরবর্তীতে মতবিরোধের কারণে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুবার নির্বাচনে পরাজিত করে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ এর বিধানসভায় তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হলেন।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে। ফলে রাজনৈতিকভাবেও এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ বাম শাসনের পর তৃণমূলের উত্থান যেমন রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছিল, তেমনই এবার বিজেপির সরকার গঠন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে চলেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এই অবস্থায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে রয়েছে নানান চ্যালেঞ্জ। সমস্ত বাধা পেরিয়ে বঙ্গের দায়িত্ব মিললেও এখন শুভেন্দুর শাসনে এই বাংলা কেমন থাকে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


