Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে ৪মে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এর মধ্যেই বিপুল আসনে জয়ী ভাজপার দলে যোগ দিতে হুড়োহুড়ি পড়েছে বিরোধী দলের পরাজিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তবে সেই দলবদল নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)।
গত বৃহস্পতিবার সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) স্পস্ট বলেন, “তিলক কেটে আপনারা সন্ন্যাসী সাজছেন, আপনারা কেউ সতী লক্ষ্মী নন। পিসি শাশুড়ি সবাই কে নিয়ে চলে এসেছেন। কিন্তু আমি আপনাদের সব অতীত ইতিহাস জানি।” তাঁর দাবি, বিজেপির দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে এই দলবদল ঘিরে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যাঁরা অতীতে অন্য রাজনৈতিক দলের, বিশেষত তৃনমূল কংগ্রেসের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, তাঁরাই এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই মানুষদের ‘সুবিধাবাদী’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের (Sajal Ghosh) এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত অবস্থান মজবুত করতে প্রতি নির্বাচনের পরেই এই দলবদল দেখা যায়। এমনকি গত বিধানসভায় এক দল থেকে জয়ী বিধায়ককেও অন্য দলে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল। তবে এইবার প্রথম থেকেই বিজেপি কড়া অবস্থান নিয়েছে। তৃনমূল কংগ্রেসের কোনো কর্মী সমর্থকদের দলে স্থান দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে তৃণমূলের অনেক প্রভাবশালী নেতাই বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায় যদিও নির্বাচনের পর আবার তিনি তৃণমূলে ফিরে যান। অন্যদিকে ২০২০ সালে তৃণমুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া তৃনমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রী বিজেপিতে যোগদান করেছিল। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তৃণমূল থেকে বিজেপিতে বড়সড় দলবদল হয়। এই বার সরকারে এসে আর সেই ‘ ভুল ‘ করা হবে না বলে জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।


