Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। তার মধ্যেই হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতের (Tibet) সীমান্তে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী হ্রদ নিয়ে সতর্ক করেছে চিন (Chaina)। যে কোনও সময় ওই হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ (Natural Dam) ভেঙে গিয়ে নিচের দিকে প্রবল জলস্রোত নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হ্রদের জলের রং দ্রুত গাঢ় হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির এই পরিবর্তনকেই উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিনা কর্তৃপক্ষ। তাদের আশঙ্কা, জলের চাপ আরও বাড়লে অস্থায়ীভাবে তৈরি হওয়া বাঁধটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কীভাবে তৈরি হল এই হ্রদ?
চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যার সময় নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় একটি পাহাড়ের বড় অংশ ধসে পড়ে। সেই ধসের ফলে নদীর পথে প্রাকৃতিকভাবে একটি বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর লহেন্দে নদীর কাছের এলাকায় জল জমতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার জল জমে যায়।
শুক্রবার থেকে সেই জমা জল ধীরে ধীরে উপচে পড়তে শুরু করেছে। জল লহেন্দে খোলা হয়ে ত্রিশূলী নদীর দিকেও প্রবাহিত হচ্ছে। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে হ্রদে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার জল জমতে পারে।
কেন জলের রং নিয়ে উদ্বেগ?
নেপালের বিদেশ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া বার্তায় চিন জানিয়েছে, মাত্র দু’দিন আগে তৈরি হওয়া হ্রদের জল ক্রমশ কালচে ও গাঢ় হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছে চিনা প্রশাসন। জলে প্রচুর পলি মিশে যাওয়া এবং হ্রদের ভিতরে জলের চাপ বাড়ার কারণেই এমন পরিবর্তন হতে পারে। ফলে প্রাকৃতিক বাঁধটি আচমকা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বড় বন্যার আশঙ্কা কতটা?
তবে পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তির কথাও জানিয়েছে বেজিং। স্যাটেলাইট এবং ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদ ও আশপাশের এলাকার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। চিনের বন্যা পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, বাঁধের কোনও অংশ ভেঙে গেলেও প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ ঘনমিটার জল নদীতে নামতে পারে। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এই জলপ্রবাহ খুব বড় মাত্রার বিপর্যয় ডেকে আনার মতো না-ও হতে পারে। নদীর জলস্তর বাড়লেও তা মূলত নদীর আশপাশের এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের কোনওভাবেই অসতর্ক হতে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বদলালে দ্রুত জলস্তর বাড়তে পারে বলেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যার পর নতুন আতঙ্ক
এরই মধ্যে বুধবারের ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালে অন্তত ৬১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিব্বতেও প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকাজ এবং নিখোঁজদের সন্ধান চালানোর মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। আপাতত বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা কম বলে জানানো হলেও, সীমান্তবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


