Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে ফের শুরু হলো আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সভায় কলকাতা হাইকোর্টের শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও সভার সময় রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এই অভিযোগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আদালতের শর্তে সভার অনুমতি
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় পৃথক কর্মসূচি নেয় তৃণমূলের দুই শিবির। মেয়ো রোডে সভার অনুমতি না দিয়ে আদালত দুই শিবিরকে পৃথক জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন কালীঘাট-তৃণমূলকে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি অংশে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে রানি রাসমণি রোডে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
কী কী নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি সভায় সর্বোচ্চ ১,৫০০ জন কর্মী-সমর্থক থাকতে পারবেন। দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করার কথাও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, ক্যাথিড্রাল রোড এবং রানি রাসমণি রোডের একটি করে অংশ যান চলাচলের জন্য খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
‘রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়’, অভিযোগ শুভেন্দুর
এই শর্তই মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সভায় আসার পর রাস্তার পাশে গাছের নীচে থাকা কর্মী-সমর্থকদেরও সভাস্থলের দিকে নিয়ে আসা হয়। এর জেরে রাস্তার একটি অংশ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ তাঁর। শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই পুলিশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শুক্রবারের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হওয়ার পর ভিড় বাড়ে। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্যারিকেড সরিয়ে কর্মী-সমর্থকদের একাংশ মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন এবং এর ফলে ক্যাথিড্রাল রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে শুভেন্দু অধিকারীর FIR-এর নির্দেশের ফলে বিষয়টি এবার আইনি জটিলতার দিকে গড়াতে পারে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।


