Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) এখনও বহু বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ (Missing foreign national)। তাঁদের খোঁজে আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ বাড়তেই শেষ পর্যন্ত অবস্থান নরম করল নেপাল সরকার (Nepal Government)। এতদিন বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে দেশে ঢোকার অনুমতি না দিলেও শুক্রবার ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের নেপালে আসার অনুমতি দিয়েছে কাঠমাণ্ডু।
বুধবার নেপাল সরকার জানিয়েছিল, দেশের নিজস্ব উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। কিন্তু নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধান এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সাহায্যের প্রয়োজন নিয়ে বিভিন্ন দেশের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে নেপাল।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সাধারণ উদ্ধারকাজে বিদেশি দলকে ব্যবহার করা হবে না। যেসব কাজে বিশেষ প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন, মূলত সেখানেই তাঁদের সাহায্য নেওয়া হবে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভিতর আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধার, দ্রুত DNA পরীক্ষা এবং ফরেনসিক শনাক্তকরণের কাজে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করবেন।
ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে
নেপাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের শুক্রবারের হিসাব অনুযায়ী, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত ৫৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১,৯২৪ জন।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয়ের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া ১০০ জন চিনা, ৬৫ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্প ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে ২১৬ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। হড়পা বান ও ধসের সময় সেখানে প্রায় ১,৩৫০ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এখনও ৫৭৬ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই শ্রমিকরা টানেলের ভিতরে আটকে রয়েছেন, নাকি বানের জলে ভেসে গিয়েছেন—তা এখনও নিশ্চিত নয়। ধস ও বন্যার কারণে একাধিক রাস্তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। ফলে উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই বড় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আকাশপথে উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা হলেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেখানে হেলিকপ্টার নামানোও সম্ভব হচ্ছে না।
নেপালের পাশে ভারত
এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনার পর দিল্লি থেকে জরুরি সাহায্য পাঠানো হয়েছে। ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী এবং জেনারেটরের পাশাপাশি NDRF-এর বিশেষ দল, ১১ সদস্যের চিকিৎসক দল এবং টানেল উদ্ধারে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের নেপালে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের নিখোঁজ ৯ নাগরিকের সন্ধানে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধারকাজ এবং মৃতদেহ দ্রুত শনাক্ত করার কাজে আপাতত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। ফলে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধারকাজে এবার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ল।


