Aaj India Desk, কলকাতা : গতকাল রাখি বন্ধন উৎসবের দিন ‘বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠানে দেশপ্রেমের সুরে সরগরম ছিল যাদবপুরের মঞ্চ। আর সেই মঞ্চ থেকেই স্বাধীনতার সাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভুল বক্তব্য ঘিরে উঠল নিন্দার ঝড়। একইসঙ্গে ‘বন্দেমাতরম’-এর রচয়িতা নিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যও নতুন করে টেনে এনেছে ইতিহাসের তথ্য-নির্ভুলতার প্রশ্ন। ঘটনায় সমাজ মাধ্যমেও রীতিমতো কটাক্ষ শুরু করেছেন জনসাধারণ।
যাদবপুরের মঞ্চে কী বললেন শুভেন্দু?
শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানেই তিনি জাতীয়তাবাদ, ‘আজাদি’ স্লোগান এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “আমরা ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা পেয়েছি। তারপর এখন আজাদী বলার অর্থ কি ?”
বিরোধীদের নিশানায় বিজেপি
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল তৃণমূল ও সিপিএমের পক্ষ থেকে বিজেপিকে নিশানা করা হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, যে দল সারাদিন দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের কথা বলে, তাদের নেতাদের বক্তব্যেই ইতিহাসের তথ্য নিয়ে এমন বিভ্রান্তি দলের আদর্শ ও শিক্ষা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করছে। পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানেন না দেশ কত সালে স্বাধীনতা পেয়েছিল। এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে।”
বন্দে মাতরম নিয়েও দিলীপের ভুল মন্তব্য
এরই মধ্যে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের একটি বক্তব্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে যাদবপুরের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বন্দেমাতরম’ গান লিখে সামাজিক উৎসবের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ রোধ করেছিলেন।” তবে ঐতিহাসিকভাবে ‘বন্দেমাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৬ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন মাত্র।
স্বাধীনতা দিবস, জাতীয়তাবাদ এবং ‘বন্দেমাতরম’কে কেন্দ্র করে যাদবপুরের কর্মসূচি ঘিরে এমনিতেই রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। তার মধ্যেই স্বাধীনতার ইতিহাস এবং জাতীয় সংগীত নিয়ে বিজেপি নেতাদের এই ধরনের ভুল বক্তব্য সমাজ মাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এই দুই বক্তব্যকে পাশাপাশি রেখে সাধারণ মানুষদেরও নানা কটাক্ষমূলক মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। এক নেটিজেন লেখেন, “একজন বক্তব্যে ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতার কথা বলছে, অন্যজন বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথকে ‘বন্দেমাতরম’-এর রচয়িতা বলছে! এই ধরনের মন্তব্য বিজেপি নেতাদের ইতিহাস-জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।” আবার অন্য একজনের দাবি, “বঙ্গ-বিজেপি নেতারা (বিশেষ করে মন্ত্রীসভা) কোনও একটা কিছুকে নিয়ে ভীষণভাবে আতঙ্কে রয়েছেন। যার ফল স্বরূপ এইসব ভুলভাল বক্তব্য প্রকাশ পাচ্ছে।” তবে এখনও পর্যন্ত এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার কোনো জবাব দেননি মুখ্যমন্ত্রী।


