Aaj India Desk, কাঠমান্ডু : নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহগুলির তালিকা প্রকাশ করল নেপাল পুলিশ। গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার হওয়া দেহগুলির ছবি তুলে রেখেছে পুলিশ, যাতে নিখোঁজ পরিজনদের পরিবারের সদস্যরা সেগুলি দেখে শনাক্ত করতে পারেন। পুলিশের দেওয়া QR কোড স্ক্যান করলেই অনলাইনে সেই তালিকায় পৌঁছনো যাবে। (Nepal Missing People)
QR কোডেই মিলবে মৃতদের তালিকা
নেপাল পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই QR কোড প্রকাশ করা হয়েছে। সেটি স্ক্যান করলে সরাসরি পুলিশের ওয়েবসাইটে থাকা শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহের তালিকায় পৌঁছে যাওয়া যাবে। তালিকায় প্রতিটি মৃতদেহের মুখ এবং শনাক্তকরণে সহায়ক অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ছবি রাখা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের তালিকাটি নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। (Nepal Missing People)
মৃত ৪৬৯, নিখোঁজ অন্তত ৯০০
২৬ আগস্টের হড়পা বানের পর নেপালের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং অন্তত ৯০০ জন নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে।রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং গোরখা জেলায় বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কাঠমান্ডুর উত্তরের এই এলাকাগুলিতে ত্রিশূলী এবং ভোতেকোশি নদী-ব্যবস্থার আশপাশেই ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। একাধিক মোটরযোগ্য সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তারও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। (Nepal Missing People)
রাসুয়ার গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এই জেলা নেপাল-চিন সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে রাস্তা ও সেতুর ক্ষতি উদ্ধারকাজের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব
বন্যার প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ রাখতে হয়েছে ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফলে বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু রাসুয়া বা সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই; দেশের পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলি এখনও নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে ত্রাণ ও সাহায্যের কাজও শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পুলিশের প্রকাশ করা তালিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি QR কোড এখন বহু পরিবারের কাছে নিখোঁজ প্রিয়জনের খোঁজ পাওয়ার সম্ভাব্য একটি পথ। তবে মৃতদেহ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে পুলিশের আনুষ্ঠানিক যাচাই ও পরবর্তী প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।


