কলকাতা: বাংলায় নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেই শ্রমিক অসন্তোষ ও ধর্মঘটের প্রশ্নে কার্যত কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কারখানায় কোনও ইস্যুতেই কাজ বন্ধ করা যাবে না! শ্রমিকদের অভিযোগ থাকলে যেতে হবে লেবার কমিশনে। কিন্তু কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করলেই জেল! আর এই বার্তা দিতে গিয়েই সরাসরি ‘কমিউনিস্টদের’ নাম করে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর। শিল্পের পরিবেশ ফেরাতে গিয়ে কি এবার ধর্মঘটের রাজনীতিতেই কড়া লাগাম পরাতে চাইছে সরকার?
‘কমিউনিস্টদের বলে দেবেন…’, কী বললেন শুভেন্দু?
বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। বাংলায় শিল্পের বেহাল দশার জন্য পূর্বতন বাম সরকার এবং তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অতীতের শিল্পনীতি ও শ্রমিক আন্দোলনের পরিবেশের কারণে বিনিয়োগকারীরা বাংলায় আসতে চাইতেন না।
আর এই আবহেই কারখানায় ধর্মঘট বা কাজ বন্ধের প্রসঙ্গ উঠতেই রীতিমতো কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)! তাঁর কথায়, “এসব চলবে না। কমিউনিস্টদের বলে দেবেন, যাঁরা কাজ বন্ধ করবেন তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেব। জেলে ঢোকাব। অনেকদিন জেলে থাকবেন। লেবার কমিশন আছে। সেখানে যান। সব হবে, কাজ বন্ধ হবে না।”
অর্থাৎ শ্রমিকদের কোনও অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে আন্দোলন বরদাস্ত করা হবে না, এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্পনীতি একদিকে, ধর্মঘটে কড়া বার্তা অন্যদিকে!
রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে বৃহস্পতিবারই নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে সরকার। জমি পাওয়া, বিনিয়োগে আর্থিক সুবিধা, দ্রুত সরকারি ছাড়পত্র এবং শিল্পস্থাপনের প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর মতো একাধিক বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে নতুন নীতিতে।
সরকারের লক্ষ্য, বাংলাকে ফের শিল্প ও বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু শুধু শিল্পনীতি ঘোষণা করলেই তো হবে না, শিল্পের অনুকূল পরিবেশও তৈরি করতে হবে। সেই যুক্তিতেই কি ধর্মঘট ও কাজ বন্ধের বিরুদ্ধে এতটা কড়া অবস্থান শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)?
শ্রমিক আন্দোলন বনাম শিল্পের স্বার্থ, নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত?
শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে শিল্পের স্বার্থে উৎপাদন চালু রাখার যুক্তি, অন্যদিকে শ্রমিকদের ধর্মঘট ও আন্দোলনের অধিকার, দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
বাংলায় শিল্প ফেরানোর লক্ষ্যে নতুন নীতি, আর সেই শিল্প চালু রাখতে ধর্মঘটের বিরুদ্ধে জেলবন্দির হুঁশিয়ারি! শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই কড়া বার্তার পর এখন নজর, রাজ্যের কারখানাগুলিতে শ্রমিক ও বাম সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া কোন পথে যায়।


