কলকাতা: উৎসবের আলোয় যখন সেজে উঠছে বাংলা, ঠিক তখনই রাজ্যের দুই জেলায় উদ্ধার বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র (Arms Recoverd)! বীরভূমে মিলল ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক, প্রায় হাজার ডিটোনেটর। অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে উদ্ধার একাধিক বন্দুক ও পিস্তল। পরপর এই দুই অভিযানে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে। কালীপুজোর আগে এত বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুতের নেপথ্যে কারা? কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এই বিপজ্জনক সামগ্রীর?
দুই জেলায় জোড়া অভিযান, উদ্ধার বিস্ফোরকের পাহাড়!
ঘটনার সূত্রপাত পুলিশের আগের তদন্ত থেকেই। পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য সামনে আসে। সেই সূত্র ধরে পাণ্ডবেশ্বর ও বীরভূমে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)।
বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত বারোয়া গোপালপুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং প্রায় ১২ হাজার মিটার তার (Arms Recoverd)। এই ঘটনায় মহম্মদ রেজা শেখ ও মুকেশ সিং নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের দাহ্ন গ্রামে উদ্ধার হয়েছে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ। ধৃত শেখ শাহজাহানের কাছ থেকে মিলেছে ছ’টি মাস্কেট, চারটি ৭ এমএম পিস্তল এবং ১১টি পাইপ গান। সব মিলিয়ে দুই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৩৮টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে STF।
নাশকতার ছক, নাকি কয়লা ও পাথর পাচারের কারবার?
এখানেই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের (Arms Recovered) পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত জিলেটিন স্টিক ও ডিটোনেটর কোথায়, কী কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত করা হয়েছিল? এর পিছনে কি কোনও বড় বিস্ফোরক পাচারচক্র রয়েছে?
তবে এখনও পর্যন্ত কালীপুজোকে কেন্দ্র করে নাশকতার কোনও পরিকল্পনার প্রমাণ সামনে আসেনি। বরং STF-এর প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কয়লা ও পাথর খাদান সংক্রান্ত পাচারের কাজে ব্যবহার করা হত। অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস এবং সরবরাহের গন্তব্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।উৎসবের আগে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
সামনেই কালীপুজো। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র উৎসবের প্রস্তুতি। সেই আবহে রাজ্যের দুই প্রান্তে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের (Arms Recovered) ঘটনা নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই বিপুল অস্ত্রভান্ডারের পিছনে কারা? কোথা থেকে এল এত বিস্ফোরক? আর কার কাছেই বা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এই বিপজ্জনক সামগ্রী? উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। এখন নজর, এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত!


