Aaj India Desk, কলকাতা : আসন্ন কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভা নির্বাচন। তার আগে জোটের সমীকরণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বাম শিবির (CPM)। জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটে তৃণমূলের সঙ্গে থাকলেও বাংলার পুরভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে কোনওরকম নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে নারাজ সিপিএম। বরং কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খোলা রেখেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে আলিমুদ্দিন। বুধবারের বৈঠকে এই অবস্থানেই সিলমোহর পড়েছে বলে খবর।
তৃণমূলের জন্য বন্ধ দরজা
পুরভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা যে নেই, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিপিএম (CPM) নেতৃত্ব। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে রুখতে ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূল ও বামেরা একসঙ্গে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই সমীকরণ কার্যকর হবে না। তাঁর কথায়, “আমাদের পার্টির অবস্থান স্পষ্ট। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে ঠেকাতে ইন্ডিয়া জোটের তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে তা হবে না।”
একই অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিআই নেতা প্রবীর দেবও। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের ছবি থাকলেও রাজ্যের পুরভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পৃথক রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথেই হাঁটতে চাইছে বাম শিবির।
কংগ্রেসকেই জোট সঙ্গী করার ইচ্ছে ?
তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এখনও আলোচনার দরজা বন্ধ করছে না বামেরা (CPM)। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কংগ্রেসের অন্দরেও এই প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। অধীর চৌধুরী শিবির তৃণমূলের সঙ্গে জোটের বিরোধী। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশের তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতায় আপত্তি নেই বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘনিষ্ঠ ওই অংশ।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে কলকাতা জেলা বামফ্রন্ট। আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ২০৯ হয়েছে। তাই শরিক দলগুলির মধ্যে নতুন করে আসন বণ্টন করতে হবে। এই লক্ষ্যে শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। আলোচনার মাধ্যমে শরিকদের আসন ভাগ চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ এগোবে। পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কথা মাথায় রেখে কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে বামেদের। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করেই এবার নিজেদের রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতে চাইছে আলিমুদ্দিন।


