Aaj India Desk, হাওড়া : ফের জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার আরও এক যুবক। হাওড়ার পিলখানায় সন্দেহভাজন পাক জঙ্গি হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পরই তল্লাশি জোরদার করেছিল পুলিশ। এর মধ্যেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে শেখ ইরফান (Sheikh Irfan) নামে ৩০ বছরের আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করলো গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করে পুলিশ। অস্ত্রটি কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে ইতিমধ্যেই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
গোপন সূত্রে অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শেখ ইরফানের (Sheikh Irfan) বাড়ি হাওড়ার পিলখানা ফার্স্ট বাই লেনের ১৭ নম্বরে। গোপন সূত্রে অস্ত্র থাকার খবর পাওয়ার পর সেখানে তল্লাশি চালায় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। অভিযানের সময়ই ওই যুবককে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে এল এবং কী কাজে তা রাখা হয়েছিল, তা খুঁজে বের করা। অস্ত্রটির সঙ্গে কোনও অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামিমের গ্রেপ্তারের পর থেকেই নজরে পিলখানা
এর আগে হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিম মণ্ডলকে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। তদন্তে পিলখানায় তাঁর বাড়ির পাশাপাশি একটি কারখানারও হদিস মেলে বলে জানা যায়। হামিমকে ঘিরে তদন্তের মধ্যেই পিলখানা এলাকায় অস্ত্র মজুতের অভিযোগ সামনে আসে। ফলে গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ।
পুলিশের কাছে ‘ইনপুট’ দেওয়ার দাবি মন্ত্রীর
এই পরিস্থিতিতে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই পিলখানার কয়েকটি জায়গায় অস্ত্র থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এলাকায় কিছু ব্যক্তির গতিবিধি নিয়ে পুলিশের কাছে তিনি তথ্য দিয়েছেন।উমেশ রাই বলেন, “পুলিশ একজনকে ধরেছে। আমার কাছে কিছু ইনপুট রয়েছে, যা পুলিশকে জানিয়েছি। আমার এলাকায় কয়েকজনের বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালালে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যেতে পারে।” তাঁর আরও দাবি, কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিদেশিদের যোগাযোগ রয়েছে কি না এবং তাঁদের আর্থিক উৎস কী, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শেখ ইরফানের (Sheikh Irfan) কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পর পিলখানা এলাকায় আরও কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে হাওড়া সিটি পুলিশ। পাশাপাশি ধৃত যুবকের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা অপরাধচক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।


