29 C
Kolkata
Friday, August 21, 2026
spot_img

NEET আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়ল সুপ্রিম কোর্ট

Aaj India Desk,নয়াদিল্লি : দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন পুলিশি বলপ্রয়োগ, মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ওঠা পাল্টা অভিযোগ—সবই এবার খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের গড়া পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি

দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ অভিযান ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তদন্ত দলে রয়েছেন পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রবিশঙ্কর ঝা, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শলিন্দর কৌর, সিবিআইয়ের প্রাক্তন নির্দেশক ঋষিকুমার শুক্লা এবং মেঘালয় পুলিশের প্রাক্তন ডিজি এলআর বিষ্ণোই।

কী ঘটেছিল, খতিয়ে দেখবে কমিটি

গত ২০ জুলাই সিজেপির ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচির সময় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা আইন মেনে এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলপ্রয়োগ করেছিলেন কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি। পাশাপাশি মহিলা আন্দোলনকারীদের শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতাও যাচাই করা হবে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য নথি পরীক্ষা করার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে তদন্তকারী দল।

পুলিশের দাবি, মানল না শীর্ষ আদালত

দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কেবল সীমিত লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছিল। কোনও অসংগত বা বেআইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি পুলিশের। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ পুলিশের ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি।

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে আদালতের বার্তা

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। অহিংস আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেস রেকগনিশন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রায় ২,৮০০ জন অসামাজিক উপাদানকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের অনেকের আগেও অপরাধের ইতিহাস ছিল। সাধারণ প্রতিবাদকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।

ফলে আন্দোলন প্রত্যাহার হয়ে গেলেও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে আইনি প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মেটেনি। সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটির তদন্তেই এবার স্পষ্ট হতে পারে, দিল্লির সেই বিক্ষোভে পুলিশ আদৌ সীমার মধ্যে থেকে বলপ্রয়োগ করেছিল, নাকি আন্দোলনকারীদের অভিযোগের পিছনে সত্যতা রয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন