36 C
Kolkata
Wednesday, April 22, 2026
spot_img

বহুবিবাহ বন্ধের দাবি শাহের : নির্বাচনী ইস্যুতেও সাম্প্রদায়িকতার ছাপ ?

Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর মধ্যে বহু হিন্দুগরিষ্ঠ এলাকায় প্রচারের সময় তিনি বহুবিবাহ (Polygamous Marriage) বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচনী সভা থেকে মুসলিমদের কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেছেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলেই বাংলায় চার বিয়ের প্রথা বন্ধ করা হবে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে সূক্ষ্ম সাম্প্রদায়িকতার বীজ।

কী বলছে সরকারি তথ্য ? 

সরকারি তথ্য (NFHS-5, ২০১৯–২১) অনুযায়ী, ভারতে ৯৮.৬% বিবাহই একবিবাহী, অর্থাৎ একজন সঙ্গীর সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। তার মানে বহুবিবাহের (Polygamous Marriage) হার মাত্র ১.৪%। তার মধ্যেও মুসলিমরা তালিকার শীর্ষে নেই। ধর্মভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী খ্রিস্টানদের মধ্যে বহুবিবাহ: ২.১%, মুসলিমদের মধ্যে: ১.৯%, হিন্দুদের মধ্যে: ১.৩%। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্য খুবই সামান্য এবং সামগ্রিকভাবে বহুবিবাহের প্রবণতা কমছে।

১৯৬১ সালের তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুদের মধ্যে বহুবিবাহের হার ছিল ৫.৮%, যেখানে মুসলিমদের মধ্যে ছিল ৫.৭%। অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ আইন চালু হওয়ার পরেও হিন্দুদের মধ্যেই বহুবিবাহের প্রবণতা বেশি ছিল। এরপরে আইন, সংস্কার ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে এই হার দ্রুত কমে আসে।

কেন এই ইস্যু নির্বাচনের কেন্দ্রে ?

তাহলে ভারতে বহুবিবাহের (Polygamous Marriage) হার অত্যন্ত কম এবং ধর্মভেদে পার্থক্যও সীমিত হওয়া সত্ত্বেও কেন এই ইস্যু নির্বাচনের কেন্দ্রে ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বহুবিবাহ ইস্যু ভোটের ময়দানে আবেগ ও পরিচয়ভিত্তিক আলোচনাকে প্রাধান্য দেয়। এতে বাস্তব সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রশ্ন, যেমন শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষ আর প্রশ্ন করেন না। ফলে আখেরে লাভ হয় রাজনৈতিক নেতাদের।

আইন অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধি, প্রার্থী ও নেতাদের অঙ্গীকার করতে হয় যে তারা সংবিধানের মূল্যবোধ মেনে চলবেন, সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রাখবেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবেন। অথচ বাংলার রাজনৈতিক প্রচারে সীমিত তথ্য বা আংশিক পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজনের মানসিকতা উসকে দেওয়ার ছবি বারবার সামনে এসেছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বারবার একই ধরনের বার্তা প্রচার করে দেশ জুড়েই ঘৃণার রাজনীতি চলছে। এখন দেখার, এই ঘৃণার রাজনীতি শেষপর্যন্ত কতদূর গড়ায়।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন