Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই মহিলা ভোটব্যাঙ্ক পাখির চোখ। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলির একাধিক ভাতা (Allowance), প্রকল্প ও প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দুতে মহিলা সমাজ। প্রচারে এসেই এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই নির্বাচনকে সামনে রেখে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপিও। নিজেদের ইশতেহারেও এই প্রতিশ্রুতির কথা লিখেছে তারা। তবে অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে মাতৃস্বাস্থ্য ও কল্যাণে একই ধরনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে উল্টে প্রশ্ন করেছে বিরোধী শিবির।
আজকেও নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ₹২০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা (Allowance) এবং মহিলাদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হবে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ₹৩,০০০ ভাতা এবং কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বাস পরিষেবার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজেপি-শাসিত কিছু রাজ্যে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলি এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এও বিজেপি গর্ভবতী মহিলাদের ২১,০০০ টাকার সহায়তা ও পুষ্টি কিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সেই প্রকল্প এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণার ভিত্তিতে, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যে কন্যা ভ্রূণহত্যার হার যথেষ্ট বেশি। NCRB এর তথ্য অনুযায়ী , উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রায়শই নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের সংখ্যাও অনেক বেশি।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির নিজের রাজ্যগুলিতে যথাযথ ব্যবস্থা না গ্রহণ করে বাংলায় এই প্রকল্প ও ভাতার (Allowance) ঘোষণা আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। নারীর সম্ভ্রম রক্ষা নিয়ে বার বার প্রচার চালালেও নিজের ঘরেই যে সেই সম্ভ্রম রক্ষা হচ্ছে না সেদিকে লক্ষ্য করার আবেদন জানিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধী শিবির।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে। তবে ঘোষণাগুলি বাস্তবে রূপ পায় কিনা, তা নির্ভর করে নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর।


