Aaj India Desk, কলকাতা: আগামীকালই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট। নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। এই ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কী অভিযোগ উঠেছে ?
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি অনুসারে, CEO মনোজ কুমার আগরওয়াল কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে পর্যবেক্ষকরা শুধুমাত্র কমিশনের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে রাজ্যস্তরের CEO সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন না। এই ধরনের বৈঠক পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিরোধ হওয়ায় দায়িত্ব থেকে অপসারণ ?
হুগলির চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জেনারেল অবজার্ভার সি. পলরাসু পর্যবেক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন যে CEO-র পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক বা নির্দেশ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। এরপর CEO-র পোস্ট ডিলিট ও তাঁকে গ্রুপ থেকে সরানো হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই কমিশন পলরাসুকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাজ্য থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কোচবিহারের সাধারণ পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদবেরও এই একই বিষয় নিয়ে মতবিরোধ হয় এবং তাঁকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।
‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগের দাবি
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশন প্রথমে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেয়। তবে তৃনমূল কংগ্রেসের দাবি, তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে এবং তা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। CEO-র অফিস থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ও নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঝে এই ধরনের অভিযোগ রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়েছে। এর আগেও নন্দীগ্রাম সফরে CEO-কে বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা যাওয়ায় নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। বারবার এই ধরনের অভিযোগের ফলে নির্বাচন কমিশন ও CEO এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


